বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home নিবন্ধ

শহীদ ইলমুদ্দিন আজো আমাদের অন্তরে বেঁচে আছেন

নভেম্বর ১, ২০২২
in নিবন্ধ
Share on FacebookShare on Twitter

১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকার বাংলাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে বাংলাকে দুইভাগ করে, যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। পূর্ববাংলা (বাংলাদেশ) ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ করে যার রাজধানী করা হয় ঢাকাকে। ঢাকা রাজধানী হলে মুসলিমরা লাভবান হবে এই হিংসায় কোলকাতার হিন্দু মুশরিকরা এর সর্বাত্মক বিরোধীতা করে। এরপর থেকে হিন্দু-মুসলিম তিক্ততা কেবল বাড়তেই থাকে। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। একইসাথে ভারতের রাজধানী কোলকাতা থেকে সরিয়ে দিল্লিতে নেওয়া হয়।

কোলকাতার এতো বড় ক্ষতি হওয়ার পরও কোলকাতার মুশরিকরা আনন্দ উল্লাস করতে থাকে। ব্রিটেনের রাজার উদ্দেশ্যে পূজো দেয়। এই উল্লাসের একটাই কারণ সেটা হলো মুসলিমদের সম্ভাব্য উন্নয়ন বা অগ্রগতি ঠেকানো গেছে। নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করার মনে হয় সবচেয়ে পারফেক্ট উদাহরণ এটাই। ১৯০৫ সাল থেকে ছোট বড় সাম্প্রদায়িক দাঙা লেগেই থাকতো। হিন্দু মুশরিকদের একজন ‘পণ্ডিত চামুপতি লাল’ ছদ্মনামে একটি স্যাটায়ার বই লেখে। এর নাম দিয়েছিল “রঙ্গিলা রাসুল”। লাহোরের এক প্রকাশক রাজপাল ১৯২৩ সালে বইটি প্রকাশ করে। সারা ভারতের মুসলিমদের মধ্যে বইটি চাঞ্চল্য তৈরি করে।

এই বইতে বেসিক্যালি আল্লাহর রাসূল সা.-কে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ওনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নবুয়্যত, আল্লাহ এবং বিশেষ করে ওনার স্ত্রীদের নিয়ে তামাশা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মুসলিমরা কষ্ট পেয়েছে। বিক্ষুব্দ হয়েছে। এই পুস্তিকার বিষয়াবলির উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে চারদিকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এরপর এই ব্যাপারটিকে আদালতে নিয়ে যায় মুসলিমরা। আদালত রাজপালকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে। পরবর্তীতে আপিল করা হলে জজকোর্ট এই বিচারকে সমর্থন করে। রাজপাল এরপর হাইকোর্টে যায়। হাইকোর্ট তাকে নির্দোষ ঘোষণা দেয়। মুহাম্মদ সা.-কে ব্যঙ্গ করাকে ইংরেজরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে। হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত মুসলিমদেরকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে।

ইলমুদ্দিন নামে এক ১৯ বছর বয়সী এক কাঠমিস্ত্রীর ছেলে তার বন্ধুদের সাথে লাহোরের মসজিদ ওয়াজির খানে নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে মসজিদে এই বিষয়ে ভাষণ শোনেন। যেখানে ইসলামের নবীকে অমর্যাদাকারী ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছিল। মহানবী সা.-এর অপমানে ও বিচার না পাওয়ায় অসহায়ভাবে কেঁদে ফেললেন খতিব সৈয়দ আতাউল্লাহ শাহ বুখারি। নবীপ্রেম আর আতাউল্লাহ শাহের অসহায়ত্ব ভীষণ নাড়া দেয় ইলমুদ্দিনকে। এরপর সে লাহোরের ঊর্দু বাজারে রাজপালের দোকানে যায় এবং রাজপালকে ছুড়িকাঘাতে হত্যা করে। হত্যার পর ইলমুদ্দিন পালিয়ে যাবার কোনো চেষ্টাই করেনি। পুলিশ তাকে তৎক্ষনাৎ গ্রেফতার করে এবং মিয়ানওয়ালি কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

ইলমুদ্দিন রাজপালকে হত্যা করে বই প্রকাশের ছয় বছর পর। মুসলিমরা বহুদিন ধৈর্য ধরে বিচারের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হিন্দুদের প্রভাবে সঠিক বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে ইংরেজ সরকার। বিচারে ইলমুদ্দিনের পক্ষের আইনজীবী ফারুক হুসাইন দাবী করেন, ইলমুদ্দিন দোষী নয়, তাকে প্রভাবিত করা হয়েছিল। কিন্তু আদলত ইলমুদ্দিনের বিরুদ্ধে রায় দেয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর লাহোর হাইকোর্টে ইলমুদ্দিনের পক্ষ থেকে একটি আপিল করা হয় যেই আপিলের আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

এখানে উল্লেখ্য ইলমুদ্দিন কোনো ধরনের আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার চিন্তা বা ইচ্ছা করে নাই। সে নবীর অবমাননাকারীকে হত্যা করার মাধ্যমে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। এমনটাই ছিল তার মনোভাব। কিন্তু মুসলিম আইনজীবীরা ও রাজনীতিবিদেরা তাঁকে বাঁচানোর সর্বশেষ চেষ্টাটুকু করেছেন। জিন্নাহ পুরো ঘটনার জন্য উত্যক্তকারীদের দায়ী করে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু জিন্নাহর কোনো যুক্তিই গ্রাহ্য করেনি ব্রিটিশ আদালত। এরপর পরিস্থিতি উল্লেখ করে জিন্নাহ এই বলে আবেদন করেন যে, ইলমুদ্দিন একজন ১৯, ২০ বছরের ব্যক্তি যিনি তার বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি ভালবাসার কারণে উত্ত্যক্ত হয়েছিলেন। তাই তার মৃত্যুদন্ডকে যাবজ্জীবন অথবা দ্বীপান্তরে বদলানো যেতে পারে। কিন্তু এই আবেদনও আদালতে গৃহীত হয়নি।

রাজপালের বিচার ছয়বছরেও শেষ করা যায়নি সেখানে মাত্র ছয় মাসে ইলমুদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করার সমস্ত আয়োজন শেষ করে ফেলেছে। এই হলো ব্রিটিশদের সুবিচারের নমুনা। ১৯২৯ সালের ৩১ অক্টোবর শহীদ ইলমুদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মিয়ানওয়ালিতে ইলমুদ্দিনকে কবর দেয়া হয় যেখানে মুসলিমরা তার লাশকে লাহোরে দাফন করতে চেয়েছিল। ব্রিটিশরা ভয় পেয়েছিল যে, এটা একধরণের উত্তেজনা তৈরি করবে যা হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা তৈরি করতে পারে। আল্লামা মুহম্মদ ইকবাল এবং মিয়া আবদুল আজিজ লাশ লাহোরে নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। এরপর তার দেহ কবর থেকে ১৫ দিন পর তুলে আনা হয় এবং লাহোরে আবার কবর দেয়া হয়।

ইলমুদ্দিনের লাশ ১৯২৯ সালের ১৪ নভেম্বরে পুনরায় কবর থেকে তোলা হয়। দুই দিন পর লাস লাহোরে পোঁছে। সমস্ত শহর এবং আশেপাশের অনেক অঞ্চল থেকে মুসলিমরা তার জানাজায় আসে। ইলমুদ্দিনের বাবা আল্লামা ইকবালকে জানাজার নামাজের ইমাম হতে বলেন। কিন্তু আল্লামা ইকবাল সেটা করতে চাননি। তিনি বলেন, “আমি একজন পাপী ব্যক্তি, ইসলামের এই বীরের জানাজার নামাজের ইমাম হবার যোগ্যতা আমার নেই”।

প্রায় ছয় লক্ষ মুসলিম এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। জানাজা পড়িয়েছেন সৈয়দ দিদার আলী শাহ । কবি এবং সাংবাদিক মওলানা জাফর আলী সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন, “হায়! যদি আমি এরকম এক আশীর্বাদপুষ্ট সম্মান অর্জন করতে পারতাম!” আল্লামা ইকবাল এই লাশ বহন করে নিয়ে যান। যখন আল্লামা ইকবাল এই লাশটিকে তার কবরে রাখতে যাচ্ছিলেন তখন তিনি বলেন, “এই অশিক্ষিত তরুণটি আমাদের মত শিক্ষিতদেরকে ছাড়িয়ে গেছে।”

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬
নিবন্ধ

যেভাবে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা হয় : ২য় পর্ব

জুন ২৫, ২০২৪
নিবন্ধ

যেভাবে আওয়ামীলীগ সৃষ্টি হয় : ১ম পর্ব

জুন ২৪, ২০২৪

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • Trademark Web based poker Crazy Expensive diamonds Gambling enterprise Video slot Genuine Imitation Financial

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • Novoline Book Of Ra Für nüsse Zum besten geben

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • জনাব খন্দকার গোলাম ফারুক, নাকে খত দিন!

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • Small Guide to 100 percent free Revolves 29 40 free spins no deposit required Incentives Within the Better Casinos Canada

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • হাসিনার গোলামী করেও রক্ষা পেলোনা এমপি হারুন!

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD