জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর জাতি মুখিয়ে আছে বৈষম্যহীন ও ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের রাজনৈতিক বয়ানে ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিতর্কিত কাজ হতাশ করেছে জনগনকে। তবুও জনগন স্বপ্ন দেখে যে এই গণ অভ্যুত্থানের বদৌলতে দেশে অন্তত কিছু পরিবর্তন হবে।
সাময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো আবারো পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। কিছুদিন আগেও পরষ্পর বিপরীতমূখী অবস্থানে থাকা দলগুলো শহীদ হাদীর হত্যাকান্ড ও বেগম জিয়ার মৃত্যুর পরে আবারো ঐক্যে ফেরার বার্তা দিচ্ছে দলগুলো। ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর ঐক্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য অতি প্রয়োজনীয়।
ভোটের মাঠেও বিভিন্ন দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোট হচ্ছে যা আমাদের দেশের রাজিৈতক ঐতিহ্য। এই রাজনৈতিক সমঝোতার যাত্রায় গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের দল এনসিপির সাথে নির্বাচনী সমঝোতায় এসেছে জামায়াত। আপাতদৃষ্টিতে অনেকে এটিকে এনসিপির জন্য অকল্যাণকর দাবি করলেও সুদূর ভবিষ্যতে এটি জামায়াত ও এনসিপি দুই দলের জন্যই মঙ্গলকর হবে। কারণ দেড় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে কোন দলের সাথে জোটে গিয়ে কিছু আসনে নির্বাচিত হলে অন্তত দলীয় অস্তিত্ব রাখা ও পরবর্তীতে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
এদিকে জামায়াতের সাথে সমঝোতাকে এনসিপির আদর্শগত অপমৃত্যু বললেও মূলত বিএনপির সাথে নির্বাচনী সমঝোতার থেকে জামায়াতের সাথে সমঝোতাতেই তাদের আদর্শ অটুট থাকবে। কারণ গণ অভ্যুত্থানের পর সকল দল থেকে পরিবর্তনের বার্তা দেয়া হলেও সবচেয়ে বেশী চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নেতিবচক কাজে জড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর এনসিপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঘোষণা ছিলো পুরোনো চাঁদাবাজির সংস্কৃতি থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করা। ফলে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজিতে জড়ানো দলের সাথে সমঝোতা করলেই এনসিপির আদর্শিক অপমৃত্যু হতো। এদিক থেকে জামায়াত অনেক বেশী স্বচ্ছ।
এদিকে জামায়াতের জন্য এই সমঝোতা কল্যাণকর কারণ জামায়াত চায় ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করতে। এদিকে গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম চাওয়া ছিলো এটি। ফলে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা হলে জামায়াতের ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম সহজতর হবে। এদিক থেকে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের তরুন নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে এ পথচলা জামায়াতের জন্যও কল্যাণকর। আর ইসলাম যেহেতু ইনসাফের কথা বলে সেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যাত্রায়ও এটি কল্যাণকরা হবে। এছাড়া জামায়াতকে ডিহিউম্যানাইজেশনের যে চেষ্ঠা বামপন্থীরা করছে এনসিপি, এলডিপি ও এবিপিকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তার মুখে চপেটাঘাত করা হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মহলের আক্রশ থেকে বাঁচতে বহির্বিশ্বে নিজেদের আরও ইনক্লুসিভ ও উদার হিসেবে তুলে ধরতে জামায়াতের এই কৌশল তথা এনসিপির মতো শক্তিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি ছিল। যদিও এর জন্য জামায়াতকে বড় স্যাক্রিফাইস দিতে হয়েছে তবে এর ভালো ফল পাবে জামায়াত।
এদিকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ফলে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের সাথে সাথে জামায়াতের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতার লাগামগহীন ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য এই টানাপোড়েকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে আরও বিস্তৃত পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে এনসিপকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এ টানাপোড়েন কিছুটা কমানো যেতো। তাহলে ইসলামপন্থী রাজনীতি আজ আরও শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়াতে পারত।
তবে চরমোনাই পীর সাহেব থেকে শুরু করে জামায়াতে ইসলামী, উভয় গ্রুপই যদি বাস্তববাদী হয়, ইগো স্যাক্রিফাইস করতে পারে, তাহলে আশা করি ইসলামপন্থীদের বহুলাঙ্ক্ষিত সেই ঐক্য প্রক্রিয়া শক্তভিত্তি পাবে, ইন শা আল্লাহ।
এ্যানালাইসিসি বিডি
Discussion about this post