১/১১ ছিল একটি মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্টের সরকার। রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে বি-রাজনৈতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক যাত্রা বন্ধ করে দেয়। ফলে ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে যায় ১/১১ এর কুশীলবদের হাতে। দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা এই অব্যবস্থাপনার বিরোধিতা করলে সুপরিকল্পিত উপায়ে ঘটানো হয় বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানা হত্যাকাণ্ড৷ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী মত ও দল নিধনে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যবহার করতে শুরু করে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার হতে থাকে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও বিরোধীদলের উপর নজরদারির মাধ্যমে রাজনীতি শূন্য বাংলাদেশ গড়ে উঠে। প্রতিষ্ঠিত হয় শক্তিশালী ফ্যাসিবাদ।
সম্প্রতি আবারো সেনা গোয়েন্দাদের রাজনৈতিক কাজে যুক্ত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে কালো মেঘের আবহ তৈরি করেছে। বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন চৌধুরী একটি নির্বাচনি সভায় ডিজিএফআই-এনএসআই দিয়ে বিএনপি প্রার্থী সিলেকশনের কথা স্বীকার করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার লজ্জাজনক নজির জুলাই বিপ্লবের পর আরও দেখা গেল ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। মিলিটারি পুলিশের জামায়াত মনোনীত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতির ভিডিও গোয়েন্দারা বিএনপির অনলাইন একটিভিস্টদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। রাষ্ট্রপতি দপ্তরের ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে ফিশিং মেইল দিয়ে জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট হ্যাক করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে সাইবার আক্রমনের জঘন্য নজির হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা। পরিকল্পিত উপায়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ফলে রাজনৈতিক মহলে অবিশ্বাস ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সর্বশেষ জামায়াত সেক্রেটারির এক্স একাউন্টও হ্যাক হয়। হ্যাক হওয়ার সাথে সাথে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে তা মুহুর্তেই পৌঁছে যায় বিএনপির একটিভিস্টদের হাতে। পোস্ট হওয়ার এত দ্রুত সময়ে কার মাধ্যমে ও কোন উদ্দেশ্যে সেটার স্ক্রিনশট বিএনপিপন্থি একটিভিস্টদের হাতে পৌঁছে গেল তা নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ।
জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে গোপনীয় তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, রাজনৈতিক কাজে রাষ্ট্রীয় সংস্থার ব্যবহার, রাষ্ট্রের দপ্তর ব্যবহার করে জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হরণের চেষ্টা ও একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।
এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে মানুষ যেমন রাজনীতি ও দেশ প্রত্যাশা করেছিল সেটি কি অধরাই থেকে যাবে, সেই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে জনমনে। এত রক্ত পেরিয়েও যদি রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তন না হয় তাহলে আর কবে দেশ পরিবর্তন হবে?
Discussion about this post