রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home আন্তর্জাতিক

কেন মুসলমানদের সংখ্যা সারা বিশ্বের মতো দ্রুত বাড়বে না ল্যাটিন আমেরিকায়

এপ্রিল ৭, ২০১৭
in আন্তর্জাতিক
Share on FacebookShare on Twitter

পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মে অনুসারীর সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ার কারণে চলতি শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই মুসলমানরা সংখ্যায় খ্রিস্টানদের ছাড়িয়ে যাবে।

তবে ল্যাটিন আমেরিকায় মুসলমানদের সংখ্যা অন্যান্য দেশের মতো খুব বেশী বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না।

পরিস্কার করে এটাই বলা যায়, ২০৫০ সাল নাগাদ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার হবে, মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার হবে তারচেয়ে কম।

পুরো পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে এই ধারাটি দেখা যাবে।

এই তথ্য পাওয়া গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

এতে বলা হয়েছে যে ২০১০ সালের তুলনায় ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটবে ২৭ শতাংশ, তবে ইসলাম ধর্মে অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার হবে মাত্র ১৩ শতাংশ।

ঠিক একই সময়ে, দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হবে ৭৩ শতাংশ, যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাধারণ হার হবে ৩৫ শতাংশ।

২০৫০ সাল নাগাদ মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার

• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা – ১৭৯ শতাংশ

• সাব-সাহারান আফ্রিকা – ১৭০ শতাংশ

• মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা – ৭৪ শতাংশ

• ইউরোপ – ৬৩ শতাংশ

• এশিয়া-প্যাসিফিক – ৪৮ শতাংশ

• ল্যাটিন আমেরিকা – ১৩ শতাংশ

(সূত্র: পিউ রিসার্চ সেন্টার)

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এই গবেষণার বিষয় ছিল ‘পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের ভবিষ্যত’ এবং গবেষণাটিতে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ১৯টি দেশকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল।

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ঈদের নামাজে প্রার্থণা করছেন সেদেশের মুসলমানরা

ল্যাটিন আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে ঐ অঞ্চলে তাদের মোট সংখ্যা হবে ৯৪০,০০০।

২০১০ সালের হিসেবে স্পেন কিংবা ইতালিতে মুসলমানের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশী ছিল।

কিন্তু কীভাবে এই ধারাটি ব্যাখ্যা করা যায়?

১. অনুসারীর সংখ্যা কম

“মুসলিমদের সংখ্যা বিচারে ল্যাটিন আমেরিকা একটি অনন্য অঞ্চল, কারণ সেখানে এখনই খুব কম সংখ্যায় মুসলমান বাস করে,” বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলছিলেন পিউ রিসার্চ সেন্টারের কনরাড হ্যাকেট।

“আমরা ধারণা করছি ২০১০ সাল নাগাদ ক্যারিবিয়ান দেশগুলো সহ পুরো ল্যাটিন আমেরিকায় ৮৪০,০০০ মুসলমান ছিল।”

“সারা বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমানের তুলনায় এটি খুব ছোট সংখ্যা,” বলেন মি. হ্যাকেট।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ড ও কানাডায় মূলত অভিবাসনের মাধ্যমে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে, তবে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই বিষয়টি ঘটছে না।

সংখ্যায় ল্যাটিন আমেরিকার মুসলমান (২০১০ সালের হিসেব)

• আর্জেন্টিনা – ৪০০,০০০

• ভেনেজুয়েলা – ৯০,০০০

• ব্রাজিল – ৪০,০০০

• পানামা – ৩০,০০০

• কলম্বিয়া – ১০,০০০

• হন্ডুরাস – ১০,০০০

(সূত্র: পিউ রিসার্চ সেন্টার)

মি. হ্যাকেট বলেন, উত্তর আমেরিকা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুসলমানদের সংখ্যা এখনও বড় কিছু নয়। কিন্তু আমরা দেখছি সেখানে অভিবাসীরা আসছেন সেইসব দেশ থেকে যেখানে মুসলমানরা বড় সংখ্যায় বাস করেন। যদিও সব অভিবাসী মুসলমান নন, তবে বেশীরভাগই এই ধর্মের।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে অনেকেই অর্থনৈতিক কারণে ঐ সব দেশে যাচ্ছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা লটারি কিংবা শরনার্থী কর্মসূচির মতো বিষয়গুলোও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

ল্যাটিন আমেরিকায় দ্বিতীয় বড় মসজিদ হলো কারাকাসের ইবরাহীম ইবনে আবদুল আজিজ আল-ইবরাহীম মসজিদ

তিনি বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কিংবা অন্য অঞ্চল থেকে বড় সংখ্যায় মানুষ ল্যাটিন আমেরিকায় আসছে এমনটা আমরা দেখছি না। অর্থনৈতিক কারণ কিংবা অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এলে এটা ঘটতে পারে, তবে তেমনটা ঘটবে বলে এখনও আমাদের কাছে মনে হয় না”।

২. ধর্ম পরিবর্তন

অন্য যে কারণে ল্যাটিন আমেরিকায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়তে পারতো, তাহলো ধর্ম পরিবর্তন।

মি. হ্যাকেট বলেন, অনেক সংখ্যক মানুষ যদি ধর্ম পরিবর্তন করতো, তাহলে হয়তো মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তো।

তবে তিনি বলেন যে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটছে, তবে তা ঘটছে খ্রিস্টানদের মধ্যকার বিভিন্ন বিশ্বাসের মধ্যে।

৩. জন্মহার

বিশ্বজুড়ে মুসলমান জনসংখ্যা বাড়ার অন্যতম বড় একটি কারণ তাদের উচু জন্মহার।

মি. হ্যাকেট বলছেন, আফ্রিকার অনেক দেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সেসব দেশে একজন নারী গড়ে ৪, ৫ কিংবা ছয়টি করে বাচ্চার জন্ম দেন।

আফ্রিকায় উচু জন্মহারের কারণে সেখানে খ্রিস্টানের সংখ্যাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, ল্যাটিন আমেরিকায় এক সময় নারীরা উর্বর ছিলেন, তবে এখন তারা গড়ে ১, ২ অথবা ৩টি বাচ্চার জন্ম দেন।

“আমাদের কাছে কোন প্রমান নেই যে এই অঞ্চলের মুসলমান নারীরা এর চেয়ে বেশী হারে বাচ্চার জন্ম দেন,” বলছিলেন মি. হ্যাকেট।

সূত্র: বিবিসি

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব

মে ২১, ২০২৫
slide

ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধের বার্তা কী?

মার্চ ১৯, ২০২৫
Home Post

কী বার্তা দিয়ে গেলেন জাতিসংঘের মহাসচিব?

মার্চ ১৬, ২০২৫

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আল্লামা সাঈদী রহ.-কে ৪ বার গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শহীদ নাজিরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাবরি মসজিদ নাকি রাম মন্দির ? ইতিহাস কি বলে ?

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ফ্যাসিবাদী জামানার সিলসিলা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

জামায়াত-এনসিপি ঐক্য: এনসিপির আদর্শিক আপমৃত্যু নাকি ইনসাফের যাত্রা?

জানুয়ারি ১০, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD