বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home মতামত

শিরকের প্রচলন করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

অক্টোবর ২১, ২০২৩
in মতামত
Share on FacebookShare on Twitter
ইসলামের দৃষ্টিতে গুনাহ বা পাপকাজ দুই প্রকার। ১- কবিরা গুনাহ বা বড় গুনাহ। ২- ছগিরা গুনাহ বা ছোট গুনাহ। কবিরা গুনাহের মধ্যেও সিরিয়াল আছে। একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো শির্কের গুনাহ।
আল্লাহ তা’আলা সূরা নিসায় ৪৮ ও ১১৬ নং আয়াতে বলেন, আল্লাহ অবশ্যই শিরককে মাফ করেন না। এছাড়া অন্যান্য যত গোনাহ হোক না কেন তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন।
অর্থাৎ এই একমাত্র গুনাহ যা আল্লাহ সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন। এখানে আল্লাহর সাথে বেয়াদবি করা হয়। আল্লাহর মর্যাদার সাথে সমন্বয় করে অন্য কাউকে একই মর্যাদা দেওয়া হয়।
লুকমান আ. তাঁর ছেলেকে দেওয়া উপদেশে বলেছেন, প্রিয় বৎস, আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয় শিরক হলো বড়ো জুলুম। আল্লাহ তায়ালা এই উপদেশকে পছন্দ করে তা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন।
আল্লাহ অবশ্যই শিরককে মাফ করেন না। এই আয়াতের শানে নুজুল হলো, মদিনায় ইহুদিরা বসবাস করতো। তারা আহলে কিতাব ছিল। সেই হিসেবে তারা শিরক থেকে দূরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো তারা নিজেরা শিরকি কার্যক্রমে যুক্ত ছিল এবং যারা শিরকে যুক্ত ছিল না তারা তাদের জাতিকে শিরক থেকে দূরে রাখার ব্যাপারে কাজ করেনি।
মাওলানা মওদূদী রহ. বলেন, //”আল্লাহ অবশ্যই শিরককে মাফ করেন না। এছাড়া অন্যান্য যত গোনাহ হোক না কেন তিনি যাকে ইচ্ছা মাফ করে দেন”। এই আয়াতের অর্থ এই নয় যে, মানুষ কেবলমাত্র শিরক করবে না এবং বাদবাকি গোনাহ করে যেতে থাকবে প্রাণ খুলে।
বরং এ থেকে একথা বুঝানো হয়েছে যে, শিরকের গোনাহকে ইহুদিরা মামুলি গোনাহ মনে করে এসেছে। অথচ এটিই সবচেয়ে বড় গোনাহ। এমন কি অন্য সমস্ত গোনাহ মাফ হতে পারে কিন্তু এই গোনাহটি মাফ করা হবে না। ইহুদী আলেমরা শরীয়াতের ছোট ছোট বিধি-নিষেধ পালনের ওপর বড় বেশী গুরুত্ব দিতেন। বরং তাদের সমস্ত সময় এসব ছোটখাটো বিধানের পর্যালোচনা ও যাচাই বাছাইয়ে অতিবাহিত হতো। তাদের ফকীহগণ এই খুঁটিনাটি বিধানগুলো বের করেছিলেন ইজতিহাদের মাধ্যমে। কিন্তু তাদের চোখে শিরক ছিল একটি হালকা ও ছোট গোনাহ। তাই এই গোনাহটির হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা কোন প্রকার চিন্তা ও প্রচেষ্টা চালাননি। নিজেদের জাতিকে মুশরিকী কার্যকলাপ থেকে বাঁচাবার জন্য কোন উদ্যোগও তারা নেননি। মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব এবং তাদের সাহায্য সহযোগিতাও তাদের কাছে ক্ষতিকর মনে হয়নি।//
কুরআন আমাদের হিদায়াতের জন্য এসেছে। ইহুদী আলেমরা শিরকের গুনাহকে ছোট করে দেখতো বলে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত আমাদের জন্য নাজিল করেছেন যাতে আমরা তাদের মতো ভুল না করি।
কিন্তু দূর্ভাগ্য যে, আমরা ইহুদীদের পদাংক অনুসরণ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা গত ১৫ বছরের মধ্যে অন্তত দশবছর বলে যাচ্ছে, দুর্গাপূজা নাকি শুধু হিন্দুদের উৎসব নয়, এটা সমস্ত বাঙালির উৎসব। গতকালও সে এই কথা বলেছে। সে আরো শিরকি কথা বলে, যেমন দূর্গা এবার এই বাহনে করে এসেছে অতএব, ফসল ভালো হবে/ বৃষ্টি ভালো হবে। ইত্যাদি।
আমাদের ফকীহ, মুফতিদের দিকে যদি তাকাই তাহলে ইহুদি আলেমদের চিত্রই আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। তারা নানান বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কারো আকিদা খারাপ বলছে, ভিন্ন মতের আলেমদের বিদআতী বলছে, ঈমানহারা বলছে। অথচ শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের প্রায় সব সিনিয়র নেতা সকল পূজাকে আমাদের উৎসব বলে চালিয়ে যাচ্ছে। এই শিরকি বিষয়ে কোনো ফতওয়া নেই আলেমদের। কাউকে বলতে শুনিনি শেখ হাসিনা শিরকি কথা বলেছেন তার আকিদা খারাপ। অথচ আমরা শুনেছি, মাসজিদুল আকসা বিজয়ী মহাবীর সালাউদ্দিন আইয়ুবির আকিদা খারাপ!
ভাইয়েরা! যার যার হিসেব সেই দিবে। আমাদের হিসেব আমাদেরই দিতে হবে। আমরা যদি শেখ হাসিনার কথার প্রতিবাদ না করি তাহলে এর জন্য আল্লাহর কাছে কী জবাব দিব?
জেনে রাখবেন, এই পৃথিবী শুরু হয়েছে বিশ্বাসী মানুষদের দিয়েই। আদম আ. ও হাওয়া আ. -এর বিশ্বাসী সন্তানেরাই একটা পর্যায়ে মুশরিকে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণ হলো,
১। শয়তানের প্ররোচনা
২। অসৎ শাসক
৩। ঈমানদারদের নিষ্ক্রিয়তা
হিন্দুদের মতে দুর্গা হলো “যে দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করে”। তারা দুর্গাকে পূজা করে যাতে দুর্গা খুশি হয়ে তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করে। তারা দুর্গার কাছে সাহায্য চায় যাতে দুর্গা তাদের বিপদে সহায় হয়। এই আকিদা বা বিশ্বাস স্পষ্ট ও প্রকাশ্য শিরক। এখানে আল্লাহর ক্ষমতার সাথে দুর্গাকে অংশী করা হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহ তায়ালাকে খাটো করেছে মুশরিকরা।
আল্লাহ তায়ালা এসব শিরকি অনুষ্ঠানে অত্যান্ত ক্রোধান্বিত হন। এই অনুষ্ঠানকে যারা সার্বজনীন অনুষ্ঠান বলবে তারা অবশ্যই কবিরা গুনাহ করবে। আর এমন কবিরা গুনাহ যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না। এই কবিরা গুনাহ করলে মুসলিম থাকা যায় না। এর জন্য প্রকাশ্যে ঈমান নবায়ন করতে হয়।
আমি দুর্গাপূজা নিয়ে হাসিনার করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে ঈমান নবায়ন করার পরামর্শ দিচ্ছি। মুসলিম প্রধান দেশে এরকম কুফরি ও শিরকি আকিদার কোনো শাসক আমাদের ওপর চেপে বসা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি আমার সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছি হাসিনার শিরকি আক্বিদার প্রতিবাদ করুন। নইলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ক্রোধের মুখোমুখি হতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
Home Post

জুলাই বিপ্লব: গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্ররূপান্তরের যুগসন্ধিক্ষণে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক দায় ও চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা

মে ৩১, ২০২৫
slide

ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধের বার্তা কী?

মার্চ ১৯, ২০২৫

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শহীদ নাজিরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আল্লামা সাঈদী রহ.-কে ৪ বার গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: ১৫ বছর পরেও বেপরওয়া খুনিরা, সুবিচার পায়নি শহীদ পরিবার

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ফ্যাসিবাদী জামানার সিলসিলা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD