শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Top Post

বাংলাদেশকে কে কতদিন শাসন করেছেন

জানুয়ারি ১৩, ২০১৮
in Top Post, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

মুক্তিযুদ্ধ থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জন ব্যক্তিত্ব দেশ শাসন করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রপতি, কেউ প্রধানমন্ত্রী, কেউ আবার সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেছেন। সরকার পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে কেউ কেউ আবার কখনও রাষ্ট্রপতি কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে দু’বার রাষ্ট্রপতি শাসিত ও দু’বার প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর বাইরে দু’বার সামরিক আইন প্রশাসকের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়। এছাড়া, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিন বার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং একবার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে এককভাবে আওয়ামী লীগ বেশি সময় ধরে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটি ১৮ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল। বিএনপি দেশ শাসন করেছে ১৩ বছরের মতো। আর দল হিসেবে জাতীয় পার্টি পাঁচ বছর দেশ শাসন করেছে। তবে, দল গঠনের আগে ও পরে সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশ শাসন করেছেন প্রায় ৯ বছর।

ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে নেতৃত্বের রেকর্ড বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিন টার্মের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান মেয়াদের চার বছরসহ মোট ১৪ বছর দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও তিন টার্মে প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি দেশ চালিয়েছেন ১০ বছর। একটি টার্মে তিনি মাত্র দেড় মাসের মতো দায়িত্বে ছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয় হিসেবেই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন। তার অবর্তমানে ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত ওই সরকারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। তবে তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ওইদিনই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই দায়িত্বে তিনি ছিলেন ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিনই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে সপরিবারে নিহতের আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৫ আগস্টেই দেশের শাসনভার নেন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ। সেনাবাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় খন্দকার মোশতাক ৭৫ এর ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ৩ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বরের ক্যু এর প্রেক্ষাপটে বিচারপতি আবু সাদত মোহম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। তবে ওই সময় নেপথ্যে থেকে দেশ চালান তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। এর বছরখানেকের মাথায় জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে সরাসরি দেশ পরিচালনা শুরু করেন। তখন পুতুল রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বপদে বহাল থাকেন বিচারপতি সায়েম। প্রধান সামরিক প্রশাসক হওয়ার পর রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন জিয়া। পরে ‘নির্বাচিত’ রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল দায়িত্ব নেন জিয়া। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি। ১৯৮১ সালের ৩০ মে আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

জিয়াউর রহমান নিহতের পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকলেও নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরপর ২৪ মার্চ সাত্তারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। তিনি ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। এইচএম এরশাদ সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি এরশাদ জাতীয় পার্টি গঠন করেন। ওই বছর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। গণআন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতনের আগ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি পদে বহাল ছিলেন।

এরশাদের পতনের পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে এরইমধ্যে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদপূর্তির কিছুদিন আগে ক্ষমতায় থেকে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন করেন। প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচন বর্জন করে। নির্বাচনে জিতে খালেদা জিয়া দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে আন্দোলনের মুখে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের হাতে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেন খালেদা জিয়া।

বিচারপতি হাবিবুর রহমান সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একই বছরের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ক্ষমতা তুলে দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের হাতে। অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে ওই বছরের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান। খালেদা জিয়া টানা পাঁচ বছর দেশ শাসন করে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তবে ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ফখরুদ্দীন আহমেদ প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকেন। নবম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগ জয়ী হলে ওই বছর ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। আজ ১২ জানুয়ারি এই সরকারের চার বছর পূর্ণ হচ্ছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD