শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, ক্ষমতার দম্ভে মানবতা কেন ভূলুণ্ঠিত হয়?

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
in Home Post, slide, মতামত, সম্পাদকের কলাম
Share on FacebookShare on Twitter

– হাসান রূহী

দখল, লুটপাট, রাহাজানি ছাত্রলীগের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে শুধু শেখ হাসিনাই দেশের ক্ষমতা দখল করেননি, শেখ সাহেব নিজেও এই ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে হটিয়ে আ. লীগের নেতৃত্ব দখল করেছিলেন। ফলে দখল, শোষণ আর ফ্যাসিবাদী দর্শনেই ছাত্রলীগ সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকাসক্তি ও টাকার বিনিময়ে দলীয় পদ বিক্রির মত বেশ কিছু অভিযোগে পদ হারাতে হলো ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় পদ হারাতে হয় ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ও জাকিরকে। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জাকিরের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ততার ভাসমান অভিযোগ আনা হয়। সেই সাথে দুর্নীতি ও অর্থের বিনিময়ে দলীয় পদ বিক্রির অভিযোগ ছিল সভাপতি সোহাগের বিরুদ্ধেও। আর এসব কারণ দেখিয়ে অনেকটা ঝেটিয়ে বিদায় করা হয় তাদের। এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে পারিবারিক সম্পৃক্ততা থাকাকে গুরুত্ব দিয়ে শোভন ও রাব্বানীকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি দেয়া হয় ছাত্রলীগে।

পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকায় পদ পেয়ে ক্ষমতার দম্ভে যেন উন্মত্ত হয়ে ওঠেন শোভন-রাব্বানী। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয় তারা। চালানো হয় গুলি। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের রক্তে ভিজে যায় রাজপথ। আ. লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে বন্দী রেখে তাদের ওপর চালানো হয় পৈশাচিক নির্যাতন।

এরপর আর শোভন-রাব্বানীকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণ তরুণীদের ওপর চালানো বর্বরতা সবার চোখের সামনেই ঘটেছে। তাই সে বর্বর জুলুমের বিস্তারিত বর্ণনা টেনে পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাব্বানী বাহিনীর হাতুড়ি আর হেলমেট তান্ডবের ক্ষত আজও অনেক তরুণ বহন করে চলেছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরু, রাশেদ, ফারুকসহ অনেকেই সাক্ষী হয়ে আছেন সেই অমানবিক নির্যাতনের। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে সেদিন যারা শোভন-রাব্বানীর নেতৃত্বে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডকে শিক্ষার্থীদের রক্তে রক্তাক্ত করেছিলেন, আজ তারা কোথায়? কোথায় সেই দম্ভ?

শুধু তাই নয়, রাতের আঁধারে বিরোধী মতের পোস্টার ছেঁড়ার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ প্রকাশের যে নজির রাব্বানী ও তার সহচররা দেখিয়েছেন, এমন হীন কাজ করতে ইতোপূর্বে কোনো ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাকে করতে দেখা যায়নি।

পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের কথা। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলেও গভীর রাতে ২০-২৫টি মোটরসাইকেলে করে দলীয় সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে প্রবেশ করে বুয়েট শিক্ষার্থী দাঈয়ানকে ব্যাপক মারধর করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। এসময় বুয়েট শিক্ষার্থী দাঈয়ান নাফিস প্রধানের কাছে থাকা একাডেমিক সরঞ্জামকে জঙ্গী সরঞ্জাম বলে ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর কবর পর্যন্ত নিস্তার পায়নি হাতুড়ি ও হেলমেট বাহিনীর কমান্ডার গোলাম রাব্বানীর হাত থেকে। মৃত মানুষের কবরে গিয়ে এমন উন্মত্ততা দেশের মানুষ আর কোনোদিন দেখেনি।

আর ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ যা করেছে তা সত্যিই এক কদর্য ইতিহাস হয়ে যুগ যুগ থাকবে। ভিপি নূরের ওপর বারবার হামলা ও নির্যাতনের ভিডিওগুলো দেখলে আজও গা শিউরে ওঠে। রাতের আঁধারে ছাত্রীদের হলে প্রবেশ করে হুমকি ধামকি দেয়া ও হয়রানি ব্যাপারেও রেকর্ড আছে এই ছাত্রলীগের। আন্দোলনরত মেয়েদেরকে বারবার যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভিসির কাছে ছাত্রলীগের নিপীড়নের বিচার চাইতে গিয়েও বর্বর হামলার শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেদিন সেসব নিপীড়িত শিক্ষার্থীরা বিচার পায়নি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদেরকে হিংস্র হায়েনার মত লেলিয়ে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করেছে।

হেলমেট বাহিনীর কমান্ডার শোভন-রাব্বানী সেদিন এসব দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে অবলীলায় করতে পেরেছিলেন শুধু ক্ষমতার দাপটে। কিন্তু আজ কোথায় তাদের সেই ক্ষমতা? কোথায় তাদের সেই দম্ভ? কোথায় সেই পারিবারিক পরিচয়? ক্ষমতার দম্ভে যারা অন্ধ হয়ে যায় তাদের পরিণতি সম্ভবত এমনই হয়। এরচেয়ে ভয়ানক পরিণতি তাদের জন্য আসলেও কেউ অবাক হবে না।

বিগত নির্বাচনে যে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে দিন-রাত সারাদেশে শোভন-রাব্বানীরা সন্ত্রাস চালিয়েছে, সময়ের ব্যবধানে সেই শেখ হাসিনাই তাদের ছুড়ে ফেললেন। অনেকটা ব্যবহৃত নোংরা কাপড়ের মত। ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার দম্ভে যারা সাধারণ জনমানুষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন, শোভন-রাব্বানীরা তাদের জন্য অনেক বড় উদাহরণ হয়ে রইল। শিক্ষা নিতে পারলে কল্যাণ। অন্যথায় অপমান আর ঘৃনাই হয় জুলুমবাজ দাম্ভিকদের প্রাপ্য। মনে রাখা প্রয়োজন, ক্ষমতা কখনই চিরস্থায়ী নয়। বিশ্বের অনেক বড় বড় ক্ষমতাধরকেই এভাবে অপমানের সাথে বিদায় নিতে হয়েছে। তাই ক্ষমতাধরদের মনে রাখতে হবে- ক্ষমতায় যেন কখনও মানবতা পিষ্ট না হয়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম: আবারও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষা খাত

এপ্রিল ৯, ২০২৬
Home Post

চিরতরে বদলে যেতে চলেছে বিশ্বব্যবস্থা

এপ্রিল ৭, ২০২৬
Home Post

ইরান যুদ্ধ ও নো-কিংস আন্দোলন : বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

এপ্রিল ৫, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • জেন-জি বিপ্লব: নেপাল ও বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান থেকে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • সন্ত্রাসের দুই মুখ: গাইবান্ধার সিজু হত্যা ও বসুন্ধরায় সামরিক ষড়যন্ত্র

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • ধর্মীয় কারণে নয়, মুসলিম বিদ্ধেষ থেকেই গো রক্ষার জিগির

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • নির্বাচন কমিশনের আচরণে পক্ষপাত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাবরি মসজিদ নাকি রাম মন্দির ? ইতিহাস কি বলে ?

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম: আবারও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষা খাত

এপ্রিল ৯, ২০২৬

চিরতরে বদলে যেতে চলেছে বিশ্বব্যবস্থা

এপ্রিল ৭, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও নো-কিংস আন্দোলন : বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

এপ্রিল ৫, ২০২৬

জেন-জি বিপ্লব: নেপাল ও বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান থেকে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা

মার্চ ২৮, ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD