রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ‘কোটা’র নেতারা

আগস্ট ১৬, ২০১৮
in Home Post, জাতীয়
Share on FacebookShare on Twitter

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তার বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করার পর বাকি নেতারা পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

গত সাড়ে চার মাসে এই আন্দোলনের সাথে জড়িত মোট আটজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সবশেষ ঘটনায় বুধবার আরো একজন যুগ্ম আহবায়ক লুৎফুন্নাহার লুমাকে আটক করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ থেকে।

নেতাদের একের পর এক এরকম গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় কোটা আন্দোলনের একজন যুগ্ম আহবায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, যিনি নিজের পরিচয় দিতে চান নি, তিনি বলেছেন, “আমাদের ফোন ট্র্যাক করা হচ্ছে। প্রায়শই কল আসে অপরিচিত নম্বর থেকে। আমাদের পরিবারের লোকজনকে বোঝানো হচ্ছে আমরা নাকি রাষ্ট্র্রদ্রোহী আন্দোলন করছি।”

অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবিসি বাংলাকে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, গ্রেফতার এড়াতে তাদের বেশিরভাগ নেতা এখন আত্মগোপন করে আছেন।

তারা বলছেন, এর ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি ছাড়াও আরো কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কয়েকবারের চেষ্টার পর কেউ কেউ ফোন ধরলেও পরে তারা বলেছেন, অজানা নম্বর দেখে ভয়ে তারা ফোন ধরেন নি।

সর্বশেষ লুৎফুন্নাহার লুমাকে গ্রেফতারের আগে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের সকলেরই জামিন আবেদন বাতিল করেছে আদালত। অনেককে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।

তাদের একেক জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে। কেউ আটক আছেন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, আবার কেউ ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে। বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায়।

এছাড়াও গত চার মাসে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকজন নেতা কর্মীকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু তাদেরকে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুধু মামলা বা গ্রেফতারই নয়, অনেক নেতা কর্মীর ওপর হামলার কারণে তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।

কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির আহবায়ক ছিলেন হাসান আল মামুন। আর বাকি ১৭০ জনই যুগ্ম আহবায়ক। তাদের সাতজনই এখন কারাগারে আটক রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটা আন্দোলনের এই নেত্রী অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তার নাম ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেখানে তার ছবি দিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারও চালানো হয়েছে।

“এখন বাড়িতেও যেতে পারছি না। কারণ বাসায় গেলে সেখান থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। হলে থাকতেও ভয় পাচ্ছি। হল থেকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। থানার লোকজনসহ সরকারি দলের স্থানীয় নেতারাও আমাদের পরিবারের উপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে।”

তিনি বলেন, “ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তারা লোকজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তো আর ডিবির লোকদের চিনি না। শাদা পোশাকে এসে তারা নিজেদেরকে ডিবির লোক বলে পরিচয় দেয়। আসলেই তারা ডিবির লোক কিনা নাকি অন্য কেউ সেটাতো আর বুঝতে পারি না। ধরে নিয়ে কি করে কে জানে। ধরলে তো আর ছাড়েও না। তাদের জামিনও হয় না। তাই গৃহবন্দীর মতো অবস্থা।”

নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করতে গেলেও পুলিশ সেসব গ্রহণ করতে রাজি হয় না।

কোটা আন্দোলনের এই যুগ্ম আহবায়ক বলেন, আন্দোলন করার কারণে তার বাবার চাকরিতেও সমস্যা হচ্ছে।

“আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন। সেখানে বলা হচ্ছে সরকারের খেয়ে, সরকারের পরে আপনার মেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তো আপনার কি আর চাকরিতে থাকা উচিত! আপনার মেয়েকে যদি থামাতে না পারেন, তাহলে কেউ যদি ব্যবস্থা নেয়, বাবা হয়ে আপনি সেটা মেনে নিতে পারবেন কিনা সেটা আপনার ব্যাপার। এসব বলে তারা বাবাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও হুমকি দিচ্ছে।”

কোটা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ই এপ্রিল রাতভর সহিংস বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিল বলে ঘোষণা দেন। পরদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল বের করে।

কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনা।

এসব গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাতে গেলে সরকার সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে। এবং পুলিশও সেখান থেকে কোটা আন্দোলনের নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকে।

পরে বিভিন্ন সময়ে নেতাদেরকে তাদের বাড়ি ও হল থেকেও তুলে নিয়ে গেছে।

এরকম পরিস্থিতিতে কোটা আন্দোলনের নেতারা গত সপ্তাহে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলছেন, ঈদের আগে নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হলে তারা জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD