সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Top Post

সৃজনশীল প্রশ্ন: হাটে হাঁড়ি ভাঙল মাউশি

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭
in Top Post, কলাম, মতামত
Share on FacebookShare on Twitter

আমিরুল আলম খান

এত দিন শুধু দুষ্ট লোকেরা বলত, এবার একেবারে হাটে হাঁড়ি ভাঙল খোদ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। দেশে অর্ধেকের বেশি (৫২.০৫%) মাধ্যমিক শিক্ষক নাকি সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেনই না। মাউশি অধিদপ্তরের একাডেমিক পরিদর্শন প্রতিবেদন তা-ই বলছে। গত মে মাসে ১৮ হাজার ৫৯৮টি মাধ্যমিক স্কুলে পরিদর্শন করে মাউশি তা জানতে পেরেছে। (সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ, আগস্ট ২৩, ২০১৭)। তা এক দশক ধরে এত ঢাক পিটিয়ে যে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করা হলো, লাখ লাখ মাধ্যমিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো, তারপরও অর্ধেকের বেশি শিক্ষক ‘সৃজনশীল অংশ বোঝেন না’ কেন? শিক্ষকই যদি না বোঝেন, তাহলে তাঁরা কী পড়ান? আর অবুঝ শিক্ষক যা পড়ান, তাতে শিক্ষার্থীদের পাসের হার শনৈঃশনৈঃ বাড়ে কী করে? তার সোজা মানে হচ্ছে, গোটা জাতিকে সৃজনশীলের নামে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। এ দেশের সতেরো কোটি মানুষ তা বুঝতেও পারছে, প্রতিবাদ করছে। শিক্ষার নামে এই নষ্টামি বন্ধের জন্য এক দশক ধরে সামান্য বিবেক যাদের আছে, তারা আবদার, চেঁচামেচি, প্রতিবাদ, মানববন্ধন, মোকদ্দমা করেও এ থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না কেন? কারণ, সৃজনশীল নামক সোনার রাজহাঁস বহু লোককে রাতারাতি আঙুল ফুলে বটবৃক্ষ বানিয়েছে, বানাচ্ছে। সৃজনশীলের নামে দেশ থেকে লেখাপড়া নির্বাসনে গেছে, স্কুল-কলেজ নিষ্প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে, কোচিং সেন্টারই এখন শিক্ষার মঞ্জিল মকসুদ। এভাবে এক অশিক্ষিত, অদক্ষ, অসৎ, বিবেকহীন, নির্লজ্জ, লোভী ও আত্মপরায়ণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে; তবু সৃজনশীলের রথ থামছে না।

তার প্রথম কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় কারণ, যাঁরা সৃজনশীল শিক্ষা নিয়ে দেশ মাতাল করে দিচ্ছেন, তাঁরাই ‘সৃজনশীল কী’ তা-ই বোঝেন না। যাঁরা এই শিক্ষা মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন, নিয়েছেন, তাঁদের ১০ শতাংশও ‘সৃজনশীল শিক্ষা’র জন্য পাঠ্যপুস্তক কেমন হবে, কীভাবে সৃজনশীল শিক্ষা দিতে হয়, কীভাবে ‘সৃজনশীল প্রশ্ন’ করতে হয়, কীভাবে সে প্রশ্নের ‘উত্তর মূল্যায়ন’ করতে হয়, তার কিছুই যেমন নিজেরা জানেন না, তেমনি তা কাউকে শেখাতেও পারেননি। কিন্তু এ জন্য তাঁরা দেশ-বিদেশ সফর করেছেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও দানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করেছেন। কিন্তু যত দোষ নন্দ ঘোষ শিক্ষকদের ঘাড়ে চাপিয়ে তাঁরা সাধু হতে চাইছেন।

শিক্ষকেরা যে সৃজনশীল পদ্ধতি বোঝেন না, মাউশি এই দিব্যজ্ঞান লাভ করেছে পারফরমেন্স-বেইজড ম্যানেজমেন্ট (পিবিএম) ভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে। পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে এবং সাত নির্দেশকে পরিমাপ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সাত নির্দেশক ছিল ১. শিক্ষণ-শিখন পরিবেশ, ২. প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্ব, ৩. ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যকারিতা, ৪. শিক্ষকের পেশাদারি, ৫. শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব, ৬. সহশিক্ষা কার্যক্রম আর শিক্ষক ও ৭. অভিভাবকদের মধ্যে সম্পর্ক।

এ পরিদর্শন যে সর্বাত্মক ছিল, তা পরিদর্শন করা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। পরিদর্শিত স্কুলের সংখ্যা দেশের সব স্কুলকেই নির্দেশ করে। মাউশির সে সামর্থ্য কতটুকু আছে, সে প্রশ্ন মুলতবি রেখেই মেনে নিচ্ছি যে তারা রাজধানী থেকে শুরু করে পাড়াগাঁয়ের সব মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শন করেছে। সেখানে তারা শুধু তৈরি করা প্রশ্নমালা বিলি করে উত্তর জোগাড় করেছে, নাকি ক্লাসে উপস্থিত থেকে শিক্ষকের পারঙ্গমতাও যাচাই করেছে, সেটা সংবাদে বলা হয়নি। কিন্তু যেটা বলা হয়েছে, তা হলো, এই সমীক্ষায় নেওয়া ৮৪ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষকের মধ্যে সৃজনশীল বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাওয়া শিক্ষক ছিলেন ৪৭ হাজার ৬০৩ জন, অর্থাৎ প্রতি স্কুল থেকে গড়ে আড়াই জন। অন্যরা সৃজনশীল শিক্ষা বা প্রশ্ন বিষয়ে আদৌ কোনো প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট জানা গেল না।

এ দেশে ‘সৃজনশীল’ ‘সৃজনশীল’ বলে চিৎকার শুরু ২০০৭ সাল থেকে। তারপর ২০১০ সালে মাধ্যমিকে বাংলা ও ধর্মশিক্ষায় ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’তে প্রথম পরীক্ষা নেওয়া শুরু। ধীরে ধীরে নিচে এবং ওপরের ক্লাসে, অর্থাৎ প্রাথমিক সমাপনী ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের পেডাগজি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও কলেজশিক্ষকদের জন্য সে ব্যবস্থা আদৌ নেই, সেটা তাঁদের চাকরির কোনো শর্তও নয়। অর্থাৎ, মাধ্যমিক শিক্ষক যাঁদের চাকরির শর্তই পেডাগজি প্রশিক্ষণ, তাঁদেরই সৃজনশীল শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি; যদিও বাহারি নামে গন্ডা গন্ডা প্রজেক্ট নিয়ে গত প্রায় এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকা এ খাতে লোপাট করা হয়েছে। আর কলেজ, অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিকের কথা না হয় না-ই উল্লেখ করলাম। কেননা, তাদের তো এ বিষয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণই নেই। নায়েম বা এইচএসটিটিআই তাদের যে প্রশিক্ষণ দেয়, তা অর্থ এবং সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

তবে কি সৃজনশীল শিক্ষা বলে দুনিয়ায় আসলেই কিছু নেই? ব্লুম টেক্সোনোমি কি মিথ্যা? না, মিথ্যা তো নয়-ই এবং সৃজনশীল শিক্ষাই আসল শিক্ষা। কিন্তু বাংলাদেশে সৃজনশীল বলে যা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এর নাম আর যা-ই হোক সৃজনশীল শিক্ষা বা সৃজনশীল প্রশ্ন নয়। এখানে ‘কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন’কে ‘সৃজনশীল’ বলে ধোঁকাবাজরা গোটা জাতিকে জিম্মি করেছে।

সৃজনশীল শিক্ষার প্রথম শর্ত সৃজনশীল বই, সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতি, সৃজনশীল প্রশ্ন এবং সে প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন। সৃজনশীল শিক্ষার মূল কথা নিম্নতর ও উচ্চতর দক্ষতার মধ্যে পার্থক্য করতে জানা এবং কীভাবে শিক্ষার্থী নিজেই অনুসন্ধিৎসু হয়ে ওঠে, কীভাবে শিক্ষার্থী নিজে ভেবে, নিজে করে, নিজের মতো করে শিখতে পারে, তা শেখানো হয়। কীভাবে শিক্ষার্থী নিম্নতর দক্ষতা থেকে উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করবে, তা-ই শেখানো হয়। তাই শিক্ষার্থীকে জীবনঘনিষ্ঠ প্রায় পৌনে তিন শ ক্রিয়াপদের মাধ্যমে প্রশ্ন করতে শেখানো হয়, যা তাদের সৃষ্টিশীল হতে প্রেরণা জোগায়। কিন্তু বাংলাদেশে সৃজনশীল বইয়ের নামে পাঠ্যবইকে বানানো হয়েছে ‘নোট বই’, যা এ দেশে প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ এবং দণ্ডযোগ্য। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও টেক্সট বুক বোর্ডের যাঁরা এসব বইয়ের অনুমোদন দিয়েছেন, তাঁদের একজনেরও সৃজনশীল বই সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই।

এখন সময় এসেছে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার। সময় এসেছে দায়ীদের কাঠগড়ায় তুলে কৈফিয়ত চাওয়ার। এখানে দুটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে: প্রথম অপরাধ, তারা জনগণকে মিথ্যা বলেছে, ধোঁকা দিয়েছে ও জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, তারা কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন করেছে।

আমিরুল আলম খান, শিক্ষাবিদ

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬
Home Post

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
Home Post

রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ না হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার: গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD