সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Top Post

ইসি কি পুলিশের অধীন, না পুলিশ ইসির অধীন?

নভেম্বর ২০, ২০১৮
in Top Post, কলাম, মতামত
Share on FacebookShare on Twitter

সোহরাব হাসান

নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যক্তিদের সম্পর্কে কি পুলিশ বা গোয়েন্দা বিভাগ খোঁজখবর নিতে পারে? সেটি সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের আওতায় পড়ে। কিন্তু নিয়োগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে অন্য কারও নাক গলানো উচিত নয়। বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে। তাঁরা যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন, তাঁকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সংবিধানের ১২০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীদের প্রয়োজন হইবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।’

এর অর্থ হলো নির্বাচন কমিশন যাঁকে নিয়োগ দেবে, তাঁকেই মেনে নিতে হবে। কিন্তু গত কয়েক দিন পত্রিকায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে পুলিশ বিভাগ যেভাবে খোঁজখবর নিচ্ছে, তা শুধু এখতিয়ারবহির্ভূত নয়, বেআইনিও। সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা প্রয়োজন, নির্বাচন কর্মকর্তারা নিয়োগ পেয়েছেন বিরোধী দলের তালিকা অনুযায়ী নয়; নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তারাই এই তালিকা তৈরি করেছেন, যাঁরা সদাশয় সরকারের মাঠপর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাও। এখন নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে পুলিশের খবরদারি করা রিটার্নিং কর্মকর্তা তথা নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।

কয়েক দিন ধরে প্রথম আলোয় এ নিয়ে একাধিক খবর প্রকাশিত হলেও নির্বাচন কমিশন অনেকটা নির্বিকার। একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কমিশন থেকে পুলিশ বিভাগকে এ রকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাহলে পুলিশ কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কাজটি করছে? যদি তারা তা করে থাকে, নির্বাচন কমিশনের উচিত এখনই বন্ধ করা। কিন্তু তারা সেসব না করে লুকোচুরি খেলছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি কথা বেশ প্রচারিত আছে যে ক্ষমতাসীনেরা ধরে নিয়েছিলেন, বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপি জোট নির্বাচনে আসবে না। এটা ধরে নিয়েই নির্বাচন কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। তাঁরা ভেবেছিলেন, এবারেও ২০১৪ সালের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একটি নির্বাচন হবে। কে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, কে থাকবেন না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ‘দেশপ্রেম’ বা দলপ্রেমের প্রশ্নটি তখনই সামনে আসে, যখন বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, প্রায় সব জেলায়ই পুলিশ নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে। আমাদের একজন সহকর্মী সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে। তিনিও এসে জানালেন, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভয়ভীতিতে আছেন। পুলিশের লোকজন তাঁদের জিজ্ঞাসা করছেন, আপনি এর আগে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না। আপনি কোনো রাজনৈতিক দলের বা ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না?

খুবই নিরীহ প্রশ্ন। এই নিরীহ প্রশ্নের আড়ালের সত্যটি হলো, আপনি ‘ক’ দলের সঙ্গে জড়িত থাকলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ‘খ’ দলের সঙ্গে জড়িত থাকলেই সমস্যা। এই পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর না নিয়ে যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অফিসে খোঁজখবর নিতেন, আরও অনেক মজার তথ্য পেতেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব যখন আওয়ামী জোট শামিল হন কিংবা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপি জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হন, তখন কারও ‘অতীত রাজনীতি’ নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া অর্থহীন।

কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা অতীতে ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল করলে যে পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলাবেন না, সে কথা জোর দিয়েও বলা যায় না। এখন যেসব পুলিশ কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইছেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় জানাটা আরও বেশি জরুরি বলে মনে করি। তাঁদের আচরণে মনে হয়, জন্মসূত্রেই ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই অতি উৎসাহীরাই যেকোনো সরকারকে ডুবানোর জন্য যথেষ্ট, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারী (অন্তত নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত) নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে চলে গেলে পুলিশ বিভাগের লোকজন তার বাইরে থাকতে পারেন না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেও যেই প্রশাসন ছিল, এখনো সেই প্রশাসন কাজ করছে। তবে পার্থক্য হলো তাঁরা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে চলে গেলেন।

আমাদের মন্ত্রীরা একসময় গলা ফাটিয়ে বলতেন, নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় বা নিরপেক্ষ (তত্ত্বাবধায়ক শব্দটি ইচ্ছে করেই উল্লেখ করলাম না, সংবিধানবহির্ভূত এ রকম একটি শব্দ ব্যবহারের জন্য তারা মামলাও ঠুকে দিতে পারেন) সরকারের প্রয়োজন নেই। ক্ষমতাসীন সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে রুটিন কাজ করে যাবে এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশনই হবে সবকিছুর নিয়ন্তা হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সবকিছুর নিয়ন্তা নন। তাঁদের ওপরের নিয়ন্তা হচ্ছে পুলিশ।

এ কথাও আমাদের জানা যে তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সাধারণত, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা এসব পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাঁদের কারও বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজন মনে করলে তারা কাজটি পুলিশ বিভাগকে দিয়েই করবে। কিন্তু পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কারও সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া বা তদন্ত করতে পারে না। অথচ তারাই সেটি করছে আর নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ‘সার্বভৌম নির্বাচন’ কমিশন পুলিশের অধীন একটি সংস্থায় পরিণত হবে।

একজন অতি উৎসাহী জেলা প্রশাসক বলেছেন, রাষ্ট্র নাকি যেকোনো নাগরিকের ওপর গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে পারে। তাঁর কথা সঠিক ধরে নিলে রাষ্ট্রকে ১৬ কোটি মানুষের বিরুদ্ধেই গোয়েন্দাগিরি করতে হয়। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সেটি হতে পারে না। হতে পারে একমাত্র পুলিশি রাষ্ট্রে।

পুলিশের এই অপতৎপরতা এখনই থামানো দরকার। না হলে হয়তো তারা ভোটারদেরও এই বলে পাকড়াও করতে থাকবে যে আপনি আগে কোন দলকে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁর উত্তর মনঃপূত না হলে বলবে, ‘আপনার ভোটকেন্দ্র যাওয়া যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’ তখন প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হলেও ভোটারদের জন্য হবে না।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬
Home Post

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
Home Post

রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ না হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার: গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD