মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

বেলফোর ঘোষণা: ফিলিস্তিনিদের দুঃখের শতবর্ষ

নভেম্বর ২, ২০১৭
in Home Post, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর জারি করা বেলফোর ঘোষণাপত্রটি খুব বেশি বড় ছিল না। মাত্র ৬৭ শব্দেই শেষ করা হয় এটি। কিন্তু এর কারণে যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, তা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে একগুঁয়ে সংঘাত হিসেবেই দেখা হয়। ওই ঘোষণার শতবর্ষ পূর্ণ হতে চললেও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বড় সংকট।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ অ্যাভি শ্লায়ামের মতে, এই ঘোষণায় ব্রিটিশ সরকারের গৌরবের কিছু নেই। বেলফোর ঘোষণা ছিল লজ্জাজনক এবং দুঃখজনক পদক্ষেপ। ব্রিটিশ সরকারের লজ্জায় মাথা নত করা উচিত।

বেলফোর ঘোষণা কী?

বেলফোর ঘোষণা ছিল ফিলিস্তিনে ‘ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাস’ প্রতিষ্ঠায় ১৯১৭ সালে যুক্তরাজ্যের করা একটি প্রতিশ্রুতি। তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর এক চিঠিতে ব্রিটিশ ইহুদি নেতা লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ডকে এই প্রতিশ্রুতি দেন। ফিলিস্তিন সে সময় অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ এবং সংখ্যালঘু ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাস। ওই এলাকার জনসংখ্যার দিক থেকে তারা ছিল মাত্র ৯ শতাংশ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) চলাকালীন ওই ঘোষণা আসে এবং অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে এতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। তথাকথিত এই ম্যান্ডেট ব্যবস্থা মিত্রশক্তির দেশগুলো তৈরি করেছিল, যা ছিল আসলে ঔপনিবেশিকতা ও দখলদারিত্বের হালকা অবগুণ্ঠিত রূপ। বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া পরাজিত হওয়ার পর এই ম্যান্ডেটের বলে বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ মিত্রশক্তির করতলে আসে।

ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল ইহুদিদের জন্য একটি ‘জাতীয় আবাস’ প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের ওই এলাকায় গিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিতে থাকে। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে সেখানে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২৭ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। যদিও বেলফোর ঘোষণায় ‘ফিলিস্তিনের ইহুদি নয় এমন জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে এমন কিছু করা হবে না’ বলে প্রতিশ্রুতি থাকলেও ব্রিটিশ সরকার সেখানকার ইহুদি জনগোষ্ঠীকে স্বনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে থাকে।

এই ঘোষণা কেন বিতর্কিত?

প্রয়াত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান শিক্ষাবিদ এডওয়ার্ড সাঈদের মতে, ইউরোপের বাইরের একটি এলাকার বিষয়ে ইউরোপীয় একটি শক্তি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীর উপস্থিতি এবং ইচ্ছা বড় আকারে উপেক্ষিত হয়েছিল।

বেলফোর ঘোষণা বিতর্কিত হওয়ার এটাই সর্বপ্রথম কারণ। দ্বিতীয়ত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন বেলফোর ঘোষণার আগে ব্রিটিশরা ১৯১৫ সালে অটোমান সাম্রাজ্য থেকে আরবদের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বেলফোর ঘোষণার অর্থ ছিল, ফিলিস্তিন ব্রিটিশ দখলদারিত্বের অধীনে চলে আসবে এবং ফিলিস্তিনি আরবরা কখনোই স্বাধীনতা পাবে না।

ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি নাকবা বা প্রস্থানের ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হয় বেলফোর ঘোষণাকে। যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওই গোষ্ঠীগুলো সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য করে।

সূত্র: প্রথম আলো

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD