মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

ইতিহাসের দুই স্বৈরাচার

জুন ১৮, ২০১৯
in Home Post, slide, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, দেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD