শনিবার, মে ৩০, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

নুরকে ভিপি করেও স্বস্তি পাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী!

মার্চ ১৩, ২০১৯
in Home Post, slide, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

নজিরবিহীন দখল, জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, জালভোট আর বিরোধী প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মধ্যদিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। এরমাধ্যমে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর আরেকটি প্রহসন দেখলো দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের ভোটডাকাতি ও জাল জালিয়াতির ঘটনায় পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ঢাবি প্রশাসন ও সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

এমনকি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ঢাবির ৮ জন শিক্ষক নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটার মধ্যেও ভোটডাকাতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। তারা অবিলম্বে নির্বাচন স্থগিত করে নতুন করে তফসিল ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন। ঢাবি ভিসি, প্রোভিসি ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ছাড়া ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে এখন পর্যন্ত কেউ কথা বলছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত বছরের ইতিহাসে ডাকসু নির্বাচনকে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় বলে আখ্যাদিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা।

সোমবার দিবাগত রাতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম সংস্করণে সংবাদ ছাপা হয়েছে যে, ডাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ছাত্রলীগের জয়জয়কার। কেউ আবার শিরোনাম করেছে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এগিয়ে ছাত্রলীগের প্যানেল। কিন্তু, রাত ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ মনে করছেন, ব্যাপক জালিয়াতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসু নির্বাচনে সীমাহীন ভোটডাকাতি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়ে যায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল ছাত্রলীগকে জেতানো। ছাত্রলীগকে এমন বেপরোয়া হয়ে উঠবে এটা সরকারেরও ধারণা ছিল না। ছাত্রলীগ ছাড়া সবগুলো ছাত্রসংগঠন ভোট বর্জন করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুপুর থেকেই আন্দোলনে নামে। ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর গণভবন থেকে মনিটর করা হচ্ছিল। কখন কি হচ্ছে সব কিছুর আপডেটই প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন।

এরপর রাত ১ টার দিকে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। হয়তো নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিতে হবে অন্যাথায় আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপরই আ.লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিম এ নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই সময়ই কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে ভিপি পদ দিয়ে ছাত্রআন্দোলন দমানোর সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বামজোটের অবস্থা ভাল না। তারা কোনো আন্দোলন করতে পারবে না। এজন্য কোটা আন্দোলনের নেতাদেরকে শান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকেও এ নিয়ে চুপ থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। আর ছাত্রলীগ সেক্রেটারি রাব্বানীকেও বলা হয়েছে প্রতিবাদে কিছু বিক্ষোভ অবরোধ করার জন্য। এরপরই রাত সাড়ে ৩ টায় নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাবি ভিসি। এ ঘোষণার পরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগ।

এদিকে, পুরো ঘটনাটিই যে সরকারের তৈরি খেলা ছিল সেটা মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরকে শান্ত করতে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেই ফেললেন যে, পরিবেশ ঠিক রাখতে কোনো কোনো সময় নিজেকে বলি দিতে হয়। নেতাকর্মীদেরকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরই টিএসসিতে গিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন শোভন। তাৎক্ষণিক আলোচনা করে ধর্মঘট প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন তারা। মূলত ছাত্রআন্দোলনকে থামাতেই সরকার এই নাটকটি করেছে।

কিন্তু, নুরসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ ছাত্ররা ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা অবিচল রয়েছেন। ইতিমধ্যে চারজন প্রার্থী নতুন নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। সাধারণ ছাত্ররাও লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

অপরদিকে, ভোটডাকাতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকসুর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা আজ একাধিক বৈঠক করেছেন। কারণ, নুরকে ভিপি করে স্বস্তি পাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলনের মতো এটা আবার ভিন্নদিকে মোড় নেয় কিনা এনিয়ে টেনশনে আছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণ সরকারের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। এছাড়া সরকারবিরোধী মহল থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে উস্কে দিতে পারে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিটাকে সরকার একটা সংকট হিসেবেই দেখছে। তবে, পরিস্থিতি কখন কোন দিকে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা সব সময়ই খোঁজ খবর রাখছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬
Home Post

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬
slide

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • কী বার্তা দিয়ে গেলেন জাতিসংঘের মহাসচিব?

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ রোববার

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD