শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home আন্তর্জাতিক

মালদ্বীপে কেন ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন জনপ্রিয় হলো?

অক্টোবর ২, ২০২৩
in আন্তর্জাতিক, নিবন্ধ
Share on FacebookShare on Twitter

মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে দিয়ে যে জাহাজ চলাচলের রুট বা শিপিং লাইনগুলো আছে, তার মাঝামাঝি খুব স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানে আছে মালদ্বীপ। ভারত সাগরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় স্বভাবতই এই রাষ্ট্রের দিকে আঞ্চলিক পরাশক্তিদের নজর থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। এখানে প্রভাব বলয় তৈরি করার জন্য মরিয়া চীন ও ভারত। মালদ্বীপে তাই দুই টাইপের জনগণ তৈরি হয়েছে। একপক্ষ ভারতের পক্ষে, অন্যপক্ষ চীনের।

কিন্তু ভারতের আগ্রাসী পররাষ্ট্র নীতি ভারতকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে মালদ্বীপে। ২০১৮ সালে বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার পর মালডিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এমডিপি) নেতা ইব্রাহিম মুহাম্মদ সোলিহ্ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ শক্তিশালী করেছেন। ভারতের সঙ্গে তার দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও খুব শক্তিশালী করেছেন।

মালদ্বীপ আসলে দীর্ঘকাল ধরেই ভারতের প্রভাব বলয়ে ছিল। সাবেক স্বৈরশাসক মামুন আব্দুল গাইয়ুমকে ভারত টিকিয়ে রেখেছিল বহুদিন থেকে। প্রেসিডেন্ট সোলিহ’র বিরুদ্ধে একটা বড় সমালোচনা হল তার প্রশাসন দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার দিকেই ঝুঁকেছে – যে নীতিকে বলা হয় ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ পলিসি। মালদ্বীপে ভারতের উপস্থিতি থাকার ফলে দিল্লিও ভারত মহাসাগরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশে তাদের নজরদারি বা মনিটরিং জারি রাখতে পেরেছে। সম্প্রতি তারা তাদের নজরদারির সীমা ছাড়িয়েছে।

২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আবদুল্লাহ ইয়ামিন, যার আমলে মালদ্বীপ ক্রমশ চীনের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। সে সময় মালদ্বীপ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে’ যোগ দেয়, যে পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল চীনের সঙ্গে সারা বিশ্বের রেল, সড়ক ও নৌ-যোগাযোগ গড়ে তোলা। ইয়ামিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলো তখন মালদ্বীপকে ঋণ সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছিল। তিনি তখন চীনের শরণাপন্ন হন এবং বেইজিং কোনও শর্ত ছাড়াই মালদ্বীপে অর্থ ঢালতে থাকে।

২০২১ সালে মালদ্বীপে ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন শুরু করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও মালের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মইজ্জু। তিনি আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের দলের ডেপুটি নেতা। ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলনের মূল কারণ ইন্ডিয়ার মালদ্বীপে গোয়ান্দা কার্যক্রম। ২০১০ ও ২০১৩ সালে ভারত মালদ্বীপকে দুটি হেলিকপ্টার উপহার দিয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে তাদের একটি ছোট এয়ারক্র্যাফট-ও দেওয়া হয়। বলা হয়েছিল, মালদ্বীপে উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান চালাতে এবং আপদকালীন মেডিকেল ইভ্যাকুয়েশনে এগুলো ব্যবহার করা হবে। কিন্তু ২০২১ সালে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায় যে ভারতের দেওয়া বিমান চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ৭৫জন ভারতীয় সেনা সদস্য সে দেশে অবস্থান করছেন।

ক্ষমতাসীন ভারতপন্থীদের যোগসাজশে ভারত মালদ্বীপে গোপনে সেনা ক্যাম্প গড়ে তুলেছে, এই খবর স্বাধীনচেতা মালদ্বীপের মানুষকে আহত করে। মালদ্বীপের পক্ষ থেকে প্রথমে অস্বীকার করা হলেও পরে তারা ভারতীয় সেনাদের উপস্থিতি স্বীকার করে নেয়। জানানো হয়, “সামরিকভাবে সক্রিয় কোনও বিদেশি সেনা সদস্য মালদ্বীপে মোতায়েন নেই।” “ভারতের যে সেনা সদস্যরা এই মুহূর্তে মালদ্বীপে রয়েছেন তারা সকলেই মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের অপারেশনাল কমান্ডের অধীন”।

এই ঘটনায় মোহাম্মদ মইজ্জু ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনে মালদ্বীপবাসীর ব্যাপক সমর্থন পান মোহাম্মদ মইজ্জু। এবারের প্রেসিডেন্ট ইলেকশনে এর প্রভাব পড়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে চীন ও ভারত সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত কোনো প্রার্থী ৫০ ভাগের বেশি ভোট পাননি। ফলে ভোট গড়িয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে ভোট দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিরোধী দল পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেসের (পিএনএস) প্রার্থী মইজ্জু ভোট পেয়েছেন ৪৬ ভাগ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ পেয়েছেন ৩৯ ভাগ ভোট। নির্বাচনে আরও ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে বাকি ১৫ ভাগ ভোট পেয়েছেন। প্রথম দফার এই ফল থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে মূলত পিএনএসের মোহাম্মদ মুইজজু ও এমডিপির সলিহের মধ্যে।

দ্বিতীয় দফায় মোহাম্মদ মুইজ্জু পেয়েছেন ৫৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ভোট। আগামী ১৭ নভেম্বর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। এর আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন মোহাম্মদ সলিহ।

আদালতের দণ্ডের কারণে আবদুল্লাহ ইয়ামিন যেমন প্রার্থী হতে পারেননি, তেমনি এমডিপি থেকে নাশিদকে প্রার্থী হতে দেননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট সলিহ। এর ফল হয়েছে দুটি। নাশিদ এমডিপি ছেড়ে দিয়েছেন। আর বিরোধী পক্ষ ইয়ামিনের বিকল্প হিসেবে মুইজ্জুকে প্রার্থী করে। মুইজ্জু প্রার্থী হয়েছেন দুটি বিরোধী দলের জোট প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স থেকে। এই জোটে আছে দুটি বিরোধী দল—পিপিএম এবং পিএনসি। এর মধ্যে প্রথমটি দেশের মূল বিরোধী দল।

নির্বাচনকালে সাম্প্রতিক সংবাদগুলোতে ভারতীয় অনেক প্রচারমাধ্যম মুইজ্জুকে চীনের ‘প্রক্সি প্রার্থী’ বলেও উল্লেখ করেছে। এ রকম অভিমত যে সলিহের পক্ষে যায়নি, সেটা ভোটের ফল থেকেই স্পষ্ট। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে তিনি ৫৪ ভাগের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। অথচ এবার ৯ ভাগ কমে গেল। এ থেকে সাধারণভাবে মনে করা হচ্ছে, তার সরকারের ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি মালদ্বীপের মুসলমানেরা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

ইন্ডিয়ার পররাষ্ট্র নীতি সবচেয়ে বাজে দিক হলো তারা কোনো রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন না করে ঐ দেশের কোনো গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে। যেমন বাংলাদেশে তারা আওয়ামী লীগকে সকল বৈধ-অবৈধ সুবিধা দেয় কিন্তু বাংলাদেশ উন্নতি হবে এমন সহায়তা তারা করে না। মালদ্বীপেও তারা একই কাজ করেছে। সম্পর্ক উন্নয়ন করেছে, সুবিধা দিয়েছে সোলিহ ও তার দলকে বিনিময়ে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বকে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

নিষেধাজ্ঞা ইরানকে ভাঙতে পারেনি, আরও শক্ত করেছে

আগস্ট ২৫, ২০২৬
Home Post

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬
slide

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • জুলাই বিপ্লব: গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্ররূপান্তরের যুগসন্ধিক্ষণে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক দায় ও চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • Trademark Web based poker Crazy Expensive diamonds Gambling enterprise Video slot Genuine Imitation Financial

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • IQR Improving Inventory Performance

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • Balloonies Okc In the Oklahoma Town, Okay 73122

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা ইরানকে ভাঙতে পারেনি, আরও শক্ত করেছে

আগস্ট ২৫, ২০২৬

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD