শনিবার, মে ২, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

ক্যাম্পাসে আধিপত্য ও পদ দখলের নেশায় মত্ত ছাত্রলীগ

মে ২৬, ২০২২
in Home Post, slide, রাজনীতি
Share on FacebookShare on Twitter

একদিন বিরতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। শুধু ক্যাম্পাসে নয় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ঢুকেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায় ও গুলি বর্ষণ করে।

অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন,”এটা ক্যাম্পাসে আধিপত্য স্থাপনের লড়াই। ছাত্রলীগ ১৩ বছর ধরে ক্যাম্পাস দখল করে আছে। অন্য কোনো ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুক তারা তা চায় না। আর ছাত্রদল চাইছে ক্যাম্পাসে তাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে।”

আর ছাত্রলীগের কাউন্সিল পিছিয়ে নতুন কমিটি গঠন বিলম্বিত করার জন্য এই শো ডাউন বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের নতুন কমিটি চাওয়া কয়েকজন।

কোন উস্কানি ছাড়া ছাত্রদলের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ

সংঘাতের শুরু করেছে ছাত্রলীগ গত মঙ্গলবার। ওই দিন সকালে ছাত্রদলের নেতারা টিএসসিতে ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে আসেন সংবাদ সম্মেলন করতে। ছাত্রদলের আরো পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী একই সময়ে মিছিল করে টিএসসির দিকে আসছিলেন। তখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় তাদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

একদিন বিরতি দিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মঙ্গলবারের হামলার প্রদিবাদে মিছিল নিয়ে ঢোকার সময় দোয়েল চত্বর এলাকায় ফের হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা থেকে বাঁচতে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা করা হয়। তাদের হামলার শিকার হন মামলার কাজে আসা সাধারণ মানুষও। এর বিরুদ্ধে আইনজীবীরা প্রতিবাদ মিছিল করেছেন।

দুই দিনের হামলায় প্রকাশ্যে লাঠিসোটা, রড দেশীয় অস্ত্র ও রাম দা ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গুলির শব্দও শোনা গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে এখন উত্তপ্ত অবস্থা চলছে। এদিকে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। পুলিশ ওই মামলার আসামি ধরতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদেরই খুঁজছে। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তারের কোনো চেষ্টা করছেনা বলে অভিযোগ।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল অভিযোগ করেন, তারা মামলা নির্যাতনের মধ্যেই আছেন। এখন পর্যন্ত ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ৮০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন দুই দিনে।

তার অভিযোগ,”আমাদের ওপর গত দুই দিনে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ আমাদের ওপর গুলি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আমাদের কোনো নেতা-কর্মী থাকতে পারে না। আমাদের কোনো মিছিল মিটিং করতে দেয়া হয় না। ডাকসু নির্বাচনের বৈধতা দেয়ার জন্য আমাদের তখন সামান্য স্পেস দেয়া হয়। এখন আর সেটুকুও আমাদের দেয়া হয়না।”

আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছাত্রলীগের এক কর্মী ছবি: সাজিদ হোসেন (প্রথম আলো)

ক্যাম্পাসে আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া ছাত্রলীগ

দুই দিনের সংঘাতের নেপথ্যে মূল কারণ ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাস দখলে রাখে। গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রলীগের দখলে আছে ক্যাম্পাস। এখানে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা হয় না। আর ছাত্রদল এখন চাইছে ক্যাম্পাসে অবস্থান তৈরি করতে। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন,”ক্যাম্পাসে আধিপত্যের লড়াইয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পরীক্ষা চলছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ছাত্রলীগ গত ১৩-১৪ বছর ধরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় , সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করে আছে। তবুও সংঘাত থেমে ছিলো না। তাদের নিজেদের মধ্যে সংঘাতের কারণে বিভিন্ন ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ারও নজির রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহযোগী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রণ্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ অভিযোগ করেন,”এর আগে ছাত্রলীগ ছাত্রীদের মিছিলেও হামলা করেছে। তারা অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হলে থাকতে দেয় না। তারা ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। আর এখন আধিপত্য ধরে রাখতে ছাত্রলীগ লড়াই শুরু করেছে ছাত্রদলের সাথে। এখানে আদর্শিক কোনো বিষয় নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাদের দায় আছে।”

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন,” গত দুই দিনে যা ঘটেছে এবং আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে এই সংঘাতের দায় ছাত্রলীগকেই নিতে হবে। শুনেছি কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতা পদ ধরে রাখার জন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন যাতে পিছিয়ে যায় যেজন্য পরিকল্পিতভাবে তারা ক্যাম্পাসে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। এটা খুবই উদ্বেগজনক।”

এদিকে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিজেদের আধিপত্য দেখাতে এই হামলা করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। তার আগেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকেরা। ছাত্রলীগের নতুন পদ প্রত্যাশী কয়েকজন জানান,” যারা শীর্ষ পদে আছেন তারা চান না সম্মেলন হোক, নতুন কমিটি হোক। এখন যারা আছেন তারা আরো বেশিদিন পদে থাকতে চান। আর এই কারণেই তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্যাম্পাসে উত্তাপ তৈরি করছেন। তারা তাদের ক্ষমতা দেখাচ্ছেন। এনিয়ে চেষ্টা করেও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে টেলিফোনে পাওয়া যায়নি।

সূদ্র: ডয়েস ভেলে

সম্পর্কিত সংবাদ

slide

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬
slide

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
Home Post

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • চিরতরে বদলে যেতে চলেছে বিশ্বব্যবস্থা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • ইরান যুদ্ধ ও নো-কিংস আন্দোলন : বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম: আবারও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষা খাত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ না হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার: গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাঙালি মুসলমানের পহেলা বৈশাখ; শেকড়ের সন্ধানে, পরিচয়ের উদ্‌যাপনে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

বাঙালি মুসলমানের পহেলা বৈশাখ; শেকড়ের সন্ধানে, পরিচয়ের উদ্‌যাপনে

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম: আবারও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষা খাত

এপ্রিল ৯, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD