মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?

মে ১০, ২০১৯
in Home Post, slide, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD