শনিবার, মে ২, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

২০০৯-২০১৮: দশ বছরে খুন ৩৭ হাজার ৮৯৪টি

অক্টোবর ১১, ২০১৮
in Home Post, জাতীয়, বিশেষ অ্যানালাইসিস, রাজনীতি
Share on FacebookShare on Twitter

আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটতে থাকে। প্রশাসনে অতি দলীয়করণের কার্যক্রম চলতে থাকায় দেশব্যাপী মাঠ প্রশাসনে স্থবিরতা দেখা দেয়। গত দশ বছরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই, দখলদারিত্ব ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েছে। সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থানায় থানায় পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনা।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে দেখা যায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত খুন হয়েছে ৩৭৮৯৪ টি। এই বিশাল সংখ্যাই আমাদের ধারণা পেতে সহায়তা করে কী পরিমাণ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে দেশে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ২৯৫৮ টি, ২০১০ সালে ৪০১৭টি, ২০১১ সালে ৩৯৮৮টি, ২০১২ সালে ৩৯৮৮টি, ২০১৩ সালে ৪৫৮৮টি, ২০১৪ সালে ৪৫২৩টি, ২০১৫ সালে ৪০৩৫টি, ২০১৬ সালে ৩৫৯১টি, ২০১৭ সালে ৩৫৪৯টি এবং ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৬৫৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানে জানা যায় প্রায় ৭০% মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। যেসব ঘটনায় খুনীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সেসব ঘটনায় খুনীদের গ্রেপ্তারই করা হচ্ছে না। অন্যান্য ঘটনায় খুনীদের গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের দূর্বল তদন্ত রিপোর্টের জন্য বেশিরভাগ খুনীরাই জামিন পেয়ে বের হয়ে যাচ্ছে এবং ভিকটিম পরিবারকে নানানভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

এসব খুনের মধ্যে সিংহভাগ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। খুনের একটা বড় অংশ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও ঘটেছে। গত দশ বছরে ২০৬৩ জন মানুষ খুন হয়েছে র‍্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। এই নিয়ে অ্যানালাইসিস বিডি ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। দেখুন বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যার এক দশক।

আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যেকার দলীয় কোন্দলে খুন হচ্ছে প্রচুর মানুষ। অ্যানালাইসিস বিডি গবেষণা সেল সূত্রে জানা যায় শুধু এই বছর ছাত্রলীগ খুন করেছে ২৭ টি। এর মধ্যে সবগুলো খুনই দলীয় কোন্দলের কারণে সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ছাত্রও। গত বছরের শেষদিকে ছাত্রলীগ প্রতিটি স্কুলে তাদের তাদের স্কুল কমিটি দেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর তাদের নোংরা রাজনীতি শুরু হয় স্কুল পর্যায়ে। ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের নোংরা রাজনীতির বলি হয় কলেজিয়েট স্কুলের ১০ শ্রেণীর ছাত্র আদনান ইসফার। স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করে চন্দনপুরা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা সাব্বিরের অনুসারী মাঈন ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নামধারী ক্যাডাররাও এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি এবং দখলবাজি করছে। এসব ক্যাডার এলাকার ধর্নাঢ্য ব্যবসায়ীদের অথবা অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের টার্গেট করে। তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। অনেকে প্রাণ ভয়ে গোপনে চাঁদা দেন। ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে তারা থানা পুলিশকে এসব বিষয়ে অবহিত করেননি বা করেও কোন ফল হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীকেই বিপদে পড়তে হয় এবং তাকে প্রকাশ্যেই খুন করা হয়।

কেউ বাড়ি নির্মাণের কাজ ধরলেই কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে চাঁদাবাজরা উপস্থিত হয়। প্রথমে তারা খোঁজ করে বাড়ির মালিককে। তাকে না পেলে খোঁজা হয় ঠিকাদারকে। তাকেও না পেলে খোঁজ করা হয় দারোয়ানকে। দারোয়ানের কাছে একটি চিরকুট ও মোবাইল ফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হয়, তাদের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে চাঁদা নিয়ে হাজির হতে বলা হয়। কখনো বলা হয়, মালিককে চাঁদার টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে। সময় মতো এসে চাঁদার টাকা নিয়ে যাবে তাদের লোক। এতে কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটলেও শুরু হয় এ্যাকশন। দারোয়ান অথবা নির্মাণ শ্রমিককে পায়ে গুলী করে ভয় দেখানো হয়। চাঁদা না দিলে এর পরিণতি কি হতে পারে বাড়ির মালিক ও ঠিকাদারের পরিণতি কি হতে পারে তা বুঝিয়ে দেয় তারা গুলী চালিয়ে। চাঁদা না দেয়ায় ৯ মে ২০০৯ গোপীবাগের ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহানকে গুলী করে হত্যার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। গুলী লক্ষ্যভ্রস্ট হওয়ায় বেঁচে যান তিনি।

আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের মাস খানেকের মধ্যে শুরু হয়েছে বেশ কয়েকটি হত্যাযজ্ঞ। ২০০৯-এর জানুয়ারি মাসে পুরনো ঢাকায় ডিশ ব্যবসায়ী আজগরকে হত্যা করে লাশ ১৫ টুকরো করে সন্ত্রাসীরা। ১১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের চরকমলাপুরে চর দখল করা নিয়ে সংঘর্ষে আইয়ুব প্রামাণিক, আমিন প্রমাণিক, শিরজান প্রামাণিক ও মোসলেহ উদ্দিন নিহত হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়িতে মা ও তার দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। একই দিন রাতে ফকিরাপুল বাজারের সামনে ৩২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন সুমনকে আটকে গুলী করে সন্ত্রাসীরা। এভাবে খুনের মহোৎসবের মধ্যে দিয়েই চলেছে দশটি বছর।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রখ্যাত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি তাদের পেশাগত দৃঢ় কর্মকাণ্ডের কারণে ঢাকায় নিজ বাসভবনে খুন হতে হয়। আজ পর্যন্ত এর কোন সুরাহা হয় নি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেপ্তার করার ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত খুনীদের শনাক্তই করেনি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়ে মন্তব্য করেন “আমরা কারো বেড্রুম পাহারা দিতে পারবো না”।

২০১২ সালের ৯ই ডিসেম্বর ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে দিনে দুপুরে খুন হন বিশ্বজিৎ দাস। বিশ্বজিৎ ছিলেন একজন দর্জি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাকে বিএনপি কর্মী মনে করে চাপাতি ও দা দিয়ে কুপিয়ে দিনে দুপুরে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে তাকে হত্যা করা হয়। এমন ঘটনা গত দশ বছরে প্রচুর ঘটেছে। কিন্তু বিশ্বজিৎ একজন হিন্দু হওয়াতে এবং অরাজনৈতিক ব্যাক্তি হওয়াতে এই খুনটি খুব আলোচিত হয়।

আলোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন। এ হত্যাকান্ডের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে র‌্যাব-১১ জড়িত ছিল। এর মধ্যে র‌্যাব-১১ এর শীর্ষ তিন কর্মকর্তার নামও উঠে আসে। পরে তারা আদালতে বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। র‌্যাব সদর দফতরের তদন্তেও বিষয়টি উঠে আসে। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি ৭টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির চন্দন সরকার ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামও রয়েছেন। এ ঘটনার মূল হোতা বলে পরে প্রকাশ পায় নূর হোসেনের নাম। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন।

আরেকটি আলোচিত হত্যাকান্ড হলো ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা। ২০১৪ সালের ২০ মে একরামুলকে কুপিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় পুরো দেশেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তীর উঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে।

এছাড়া হলি আর্টিজানে জঙ্গীদের হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লার তনু হত্যা, অভিজিৎ হত্যা, জুলহাস হত্যা, প্রকাশক দীপন হত্যা, কয়েকজন বিদেশী নাগরিক হত্যা, বাঁশখালীতে নির্বিচারে গুলি করে ৫ গ্রামবাসীকে হত্যা, প্রকাশ্য দিবালোকে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খুন, পুরান ঢাকায় মসজিদে বেলাল হোসেন নামের একজন মুয়াজ্জিনকে হত্যা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র নাজিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ড ইত্যাদি ছিল খুব আলোচিত।

গত ১০ বছরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল শোচনীয় পর্যায়ে। একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেছেই। মারামারি, হানাহানি, দখলবাজি, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিশোধ নেয়া, প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলেছে দেশজুড়ে। বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিকান্ড, দখলবাজি ও প্রতিহিংসাবশত প্রকাশে খুনের ঘটনা শুরু হয় শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই। যেন একযোগে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মহোৎসব শুরু হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। প্রকাশ্যে বেরিয়ে পড়ে লাফিয়ে থাকা খুনি ও দাগী সন্ত্রাসীরা। বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীরাও দেশে এসে আশ্রয় নেয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায়। খুনের তালিকায় রয়েছে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবুঝ শিশুসহ সাধারণ নাগরিক।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬
slide

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
Home Post

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

  • চিরতরে বদলে যেতে চলেছে বিশ্বব্যবস্থা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • ইরান যুদ্ধ ও নো-কিংস আন্দোলন : বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • অনলাইন শ্রেণি কার্যক্রম: আবারও ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষা খাত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাঙালি মুসলমানের পহেলা বৈশাখ; শেকড়ের সন্ধানে, পরিচয়ের উদ্‌যাপনে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ না হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার: গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

বাঙালি মুসলমানের পহেলা বৈশাখ; শেকড়ের সন্ধানে, পরিচয়ের উদ্‌যাপনে

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD