রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home নিবন্ধ

ইসলামী ব্যাংক ছেড়ে যাচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা

অক্টোবর ১১, ২০২৩
in নিবন্ধ, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক 

এবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মালিকানা ও পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়াল সৌদি আরবভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্ত ছিল আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এই সংস্থা। আইডিবির পক্ষে সবশেষ ব্যাংকটিতে পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ আল-মিদানী। এখন তিনি আর পর্ষদে নেই, ব্যাংকটি শেয়ারও ছেড়ে দেওয়া শুরু করেছে। এর আগেও অনেক বিদেশি সংস্থা ব্যাংকটি ছেড়ে যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম এখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। তিনি জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান।

আইডিবির শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে ব্যাংকটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ব্যাংকটিতে নানা অনিয়ম শুরু হওয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ব্যাংকটি ছেড়ে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আইডিবিও ছেড়ে গেল। এসব শেয়ার বর্তমান মালিকপক্ষ কিনে নিচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংক ৮ অক্টোবর ডিএসইতে পাঠানো শেয়ারধারণের মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৩০ আগস্ট ব্যাংকটিতে আইডিবির ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৫টি বা ২ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার ছিল। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর তা শূন্য হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি থেকে পরিচালকও সরিয়ে নিয়েছে আইডিবি। এর আগে ২০১৮ সালে আইডিবি ইসলামী ব্যাংকের ৮ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

এদিকে শেয়ারধারণের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদিভিত্তিক আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সি তার ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে ইসলামী ব্যাংকে কোম্পানিটির এখন আর কোনো শেয়ার নেই। সব মিলিয়ে এক মাসেই ইসলামী ব্যাংকের ১২ শতাংশের বেশি শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে বিদেশিরা।

আরও যারা শেয়ার ছেড়েছে
১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানই ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি পরিচালনায় যুক্ত ছিল। ২০১৭ সালে একাধিক কোম্পানির নামে ২ শতাংশ করে শেয়ার কিনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ।

এরপর দেশি ও বিদেশি শেয়ারধারীরা একে একে ব্যাংকটি ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সব শেয়ার বিক্রি করে দেয় স্থানীয় উদ্যোক্তা ইবনে সিনা ট্রাস্ট। এরপর ওই বছরের মে মাসে কিছু শেয়ার বিক্রি করে দেয় আইডিবি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির শেয়ার ছেড়ে দেয় কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস। চলতি বছরের জুনে শেয়ার ও পরিচালক পদ ছাড়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। গত জুলাইয়ে শেয়ার ও পরিচালক পদ ছাড়ে সৌদি আরবের আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সি। এখন ব্যাংকটিতে একজন বিদেশি পরিচালক রয়েছেন। বাকিরা এস আলম গ্রুপসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি।

গত বছরের নভেম্বরে ইসলামী ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা আলোচনায় আসার পর ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন থেকে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাহিদামতো নগদ জমা (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) রাখতে পারছে না। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক অ্যাননটেক্স গ্রুপের একটি বন্ধ কারখানায় ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে নতুন করে ঋণ ছাড় করেছে ব্যাংকটি। গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৫১০ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। নানা অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি এখনো টাকার সংকটে ভুগছে। সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক মাঝেমধ্যে টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব ব্যাংকের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমান নীতি প্রয়োগ করা উচিত। এটা না হলে আস্থার ঘাটতি আরও প্রকট হয়। এ জন্য ভালো বিনিয়োগকারীরা সরে যান। পর্যবেক্ষকে কাজ না হলে প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

ইসলামী ব্যাংকের মতো ভালো একটি ব্যাংককে হাতে ধরে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই ব্যাংককে এমন একজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাঁর সঙ্গে কোনো ভালো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কাজ করতে চাইবে না। এ জন্য একে একে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। যখন এই ব্যাংক থেকে সুবিধা নেওয়ার সময় শেষ হয়ে যাবে, তখন ঠিকই এখন মালিকানায় থাকা লোকটি এই ব্যাংক ছেড়ে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকটিকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে কষ্টে ফেলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও টাকা ছাপাতে হবে। এই ব্যাংককে বাঁচিয়ে রাখতে আর কোনো বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, ব্যাংকটিতে দেড় লাখ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

আর দেশের এক কোটির বেশি মানুষ ব্যাংকটিতে টাকা জমা রেখেছেন। ফলে ইসলামী ব্যাংকের কিছু হলে অন্য ভালো ব্যাংকগুলোরও ক্ষতি হবে। তাতে পুরো ব্যাংক খাতের ওপর আস্থার ঘাটতি বাড়বে। ইসলামী ব্যাংককে নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের আছে বলে মনে হয় না। থাকলে অনেক আগেই তারা পদক্ষেপ নিত। অনিয়মের কারণে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের বড় ঋণ প্রদান বন্ধ করা হলেও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নীরব ভূমিকায় রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
Home Post

রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ না হয়ে রাজনীতির হাতিয়ার: গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫
Home Post

সন্ত্রাসের দুই মুখ: গাইবান্ধার সিজু হত্যা ও বসুন্ধরায় সামরিক ষড়যন্ত্র

আগস্ট ১০, ২০২৫

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আল্লামা সাঈদী রহ.-কে ৪ বার গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শহীদ নাজিরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বাবরি মসজিদ নাকি রাম মন্দির ? ইতিহাস কি বলে ?

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ফ্যাসিবাদী জামানার সিলসিলা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

জামায়াত-এনসিপি ঐক্য: এনসিপির আদর্শিক আপমৃত্যু নাকি ইনসাফের যাত্রা?

জানুয়ারি ১০, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD