বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home জাতীয়

দেশ থেকে টাকা নিয়ে সিঙ্গাপুরে আরও ধনী সামিটের আজিজ খান

সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৩
in জাতীয়
Share on FacebookShare on Twitter

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় আবারও স্থান পেয়েছেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান। গত বুধবার মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’ সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে আজিজ খানের অবস্থান ৪১তম। এ সময় তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১২ কোটি ডলার। এ নিয়ে টানা চার বছর তার সম্পদের পরিমাণ বাড়ল।

এর আগের বছর (২০২২ সাল) সিঙ্গাপুরে আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলার। সে সময় তিনি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীর তালিকায় ৪২তম অবস্থানে ছিলেন। অর্থাৎ তালিকায় এক ধাপ এগোনোর পাশাপাশি এক বছরে আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ১২ কোটি ডলার।

এদিকে দেশেও সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ আদায় প্রতি বছর বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে সামিট গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আদায়কৃত ক্যাপাসিটি চার্জের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর ডলারের বর্তমান বিনিময় হার (১১০ টাকা) ধরে সিঙ্গাপুরে আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ১৫ বছরে সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রাপ্ত ক্যাপাসিটি চার্জ ও আজিজ খানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় সমান।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা মুহাম্মদ আজিজ খান দেশটির শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান পান ২০১৮ সালে। ওই বছর তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ২০১৯ সালে মুহাম্মদ আজিজ খান জাপানি প্রতিষ্ঠান জেরার কাছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার ৩৩ কোটি ডলারে বিক্রি করে দেন। ফলে ২০১৯ সালে তার সম্পদের পরিমাণ কমে যায়। সে বছর তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

যদিও এরপর থেকে আবার তার সম্পদের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে ২০২০ সালে তার সম্পদ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ কোটি ডলার, ২০২১ সালে ৯৯ কোটি ডলার ও ২০২২ সালে ১০০ কোটি ডলার। ওই বছরই তিনি প্রথম সিঙ্গাপুরে বিলিয়নদের তালিকায় স্থান পান।

সূত্রমতে, আজিজ খান এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিকস ও আবাসন খাতের ব্যবসা আছে সামিট গ্রুপের। সামিটের অধীন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের যত ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান আছে, সেগুলোর হোল্ডিং কোম্পানি সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল।

সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত। সে জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা করলেও এ কোম্পানির সম্পদের হিসাব করা হয় সিঙ্গাপুরে। ‘ফোর্বস’ জানাচ্ছে, মুহাম্মদ আজিজ খানের কন্যা আয়েশা আজিজ খান বর্তমানে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করেন।

সামিটের যাত্রা শুরু হয় ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে। পরে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায় আসে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায় তাদের দ্রুত অগ্রগতি হয়। ১৯৯৮ সালে সামিটের প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়। ইউনাইটেড পাওয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে তুলে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বা কেপিসিএল। বর্তমানে এ কোম্পানির ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সামিট গ্রুপের হাতে। পরের বছর সামিটের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসে।

২০০৯ সালে গ্যাসচালিত সামিট পূর্বাঞ্চল নামে এ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৩৩ মেগাওয়াট। কিছু দিন চলায় ওই কেন্দ্রটির জন্য ২০০৮-০৯ অর্থবছর মাত্র ৯৩ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পরের (২০০৯-১০) অর্থবছর ওই কেন্দ্রটির জন্য ২৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়।

২০১০-১১ অর্থবছর আরও একটি কেন্দ্র চালু করে সামিট গ্রুপ। ফার্নেস অয়েলচালিত সামিট নারায়ণগঞ্জ নামক কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ১০২ মেগাওয়াট। এতে দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা দাঁড়ায় ১৩৫ মেগাওয়াট। কেন্দ্র দুটির জন্য ওই অর্থবছরে পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় মাত্র ৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পরের দুই অর্থবছরও সামিটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই উৎপাদনে ছিল। এতে ২০১১-১২ অর্থবছরে পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ১৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৯৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

যদিও ওই সময়ে আরও কয়েকটি কেন্দ্র নির্মাণাধীন ছিল সামিটের। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের শেষ দিকে সামিট মেঘনাঘাট কেন্দ্রের (২০৩ মেগাওয়াট) সিম্পল সাইকেল উৎপাদন শুরু হয়। এতে ওই অর্থবছর সামিটের কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৩৮ মেগাওয়াট। আর সে বছর পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ২০৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে মেঘনাঘাট কেন্দ্রটি পরের অর্থবছর কম্বাইন্ড সাইকেলে ও পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করে।

২০১৪-১৫ অর্থবছর সামিট মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৫ মেগাওয়াট। ডুয়েল ফুয়েল হলেও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় শুরুর কয়েক বছর এটি ডিজেলে চালানো হয়। এছাড়া ওই অর্থবছরের শেষ দিকে উৎপাদনে আসে ৩৪১ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-২ কেন্দ্রটি। যদিও গ্যাসচালিত এ কেন্দ্রটি পুরোদমে উৎপাদন শুরু করে পরের অর্থবছর। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছর সামিটের সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ৩৭১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

এর পরের (২০১৫-১৬) অর্থবছর সামিট মদনগঞ্জ ও সামিট বরিশাল নামে আরও দুটি কেন্দ্র উৎপাদনে আসে। এগুলোর সক্ষমতা ছিল যথাক্রমে ৫৫ ও ১০০ মেগাওয়াট। উভয় কেন্দ্রই ছিল ফার্নেস অয়েলচালিত। এতে ২০১৫-১৬ অর্থবছর সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮৬ মেগাওয়াট। আর ওই অর্থবছর পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ৯১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থবছরও কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতা একই ছিল। তবে ওই বছর সামিটের ক্যাপাসিটি চার্জ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১০২ কোটি ৯ লাখ টাকা। পরের অর্থবছর উৎপাদনে আসে সামিটের গাজীপুর-২ কেন্দ্রটি। ফার্নেস অয়েলচালিত এ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট। এতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২৮৬ মেগাওয়াট। ওই অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয় এক হাজার ১০০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর উৎপাদনে আসে সামিটের এসিই অ্যালায়েন্স কেন্দ্রটি। নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত ফার্নেস অয়েলচালিত এ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ১৪৯ মেগাওয়াট। এছাড়া জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হওয়ার পর মেঘনাঘাট কেন্দ্রটিতে গ্যাসে উৎপাদন শুরু করা হয়। সে অর্থবছর সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৩৫ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ পিডিবিকে পরিশোধ করতে হয় এক হাজার ৬৮৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ওই অর্থবছর শেষে সামিটের প্রাপ্ত ক্যাপাসিটি চার্জের স্থিতি দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা।

পরের চার অর্থবছরও সামিটের কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা একই ছিল। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছর সামিটের কেন্দ্রগুলোর জন্য এক হাজার ৫৮০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করে পিডিবি। আর ২০২০-২১ অর্থবছর এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছর এক হাজার ৫৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছর এক হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে ১৫ বছরে সামিট ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ আয় করেছে ১২ হাজার ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এসব কেন্দ্রের বাইরেও কেপিসিএলের ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সামিট গ্রুপের হাতে। ২০১০ সালে কেপিসিএল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ওই কোম্পানির অধীনে এক সময় তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে দুটি চুক্তিভিত্তিক চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্রের জন্য ১৫ বছরে সামিট ক্যাপাসিটি চার্জ পায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
slide

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
জাতীয়

জামায়াত-এনসিপি ঐক্য: এনসিপির আদর্শিক আপমৃত্যু নাকি ইনসাফের যাত্রা?

জানুয়ারি ১০, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শহীদ নাজিরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আল্লামা সাঈদী রহ.-কে ৪ বার গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: ১৫ বছর পরেও বেপরওয়া খুনিরা, সুবিচার পায়নি শহীদ পরিবার

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ফ্যাসিবাদী জামানার সিলসিলা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD