রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home slide

ক্রসফায়ার উত্থান করেছিলো স্বৈরাচারী শেখ মুজিব

জানুয়ারি ২, ২০২৩
in slide, বিশেষ অ্যানালাইসিস, রাজনীতি
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এক বছরে বাংলাদেশে ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে৷ চলতি বছরের ১২ মাসে তিনটি ক্রসফয়ারের ঘটনা ঘটেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়৷

এর আগের বছর ২০২১ সালে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ৫১ জন৷ চলতি বছরের সঙ্গে গত বছরের তুলনা করলে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা শতকরা ৯৪ ভাগ কমে গেছে৷

অবশ্য চলতি বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মোট ১৮ জন মারা গেছেন৷ ‘ক্রসফায়ার’ এর তিনজন বাদে বাকি ১৫ জন নির্যাতনসহ আরো কয়েকটি কারণে মারা গেছে বলে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়৷ আর যারা মারা গেছেন তারা সবাই র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে জনানো হয়েছে৷

এই তিনজনের মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তারের আগে এবং একজন গ্রেপ্তারের পরে নিহত হন৷

গত বছরের (২০২১) ১০ ডিসেম্বর পুলিশ ও র‌্যাবের সাত শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞারচার মাস পর চলতি বছরে প্রথম ‘ক্রসফায়ার’এর ঘটনা ঘটে৷ গত ১৭ এপ্রিল রাতে কুমিল্লার সদর আদর্শ উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজু নামে একজন নিহত হন৷ তিনি সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম হত্যার আসামি৷ মহিউদ্দিন সরকারকে গত ১৩ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ডেকে নিয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্ত এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে৷

এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোহাম্মদ মুবিন নামে একজন ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন৷ র‌্যাবের দাবি, নিহত যুবক একজন মাদক কারবারি৷ ঘটনাস্থল থেকে দুই লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়৷ আর গত ১০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহীন মিয়া ওরফে সিটি শাহীন নামে এক ‘‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’’ নিহত হন৷ ওই দিন দুপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিকেলে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়৷

এই ক্রসফায়ারের উত্থান করেছিলো শেখ মুজিব। ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি। বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ার অথবা বন্দুকযুদ্ধ নাটকের প্রবর্তন হয়। এইদিন বুয়েটের সাবেক ছাত্র, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা এবং সন্ত্রাসবাদী নকশাল আন্দোলনের নেতা সিরাজ সিকদারকে খুন করে বাংলাদেশের ১ম স্বৈরাচারী শাসক শেখ মুজিবুর রহমান।

সিরাজ সিকদার বাংলার রাজনীতিতে একজন আলোচিত ব্যক্তি। তিনি কারো মতে বাংলার চে গুয়েভারা। আবার কেউ তার মধ্যে একজন সন্ত্রাসবাদী ছাড়া আর কিছু খুঁজে পাননি। তার অনেক কমরেডই তাকে একনায়ক হিসেবে আখ্যা করে দল ছেড়েছেন। অনেক প্রবীন নেতা তার কাজকর্মকে বলেছেন হটকারী, বলেছেন সিআইএর দালাল। তারপরও লাল বই পড়ে বিপ্লবী হতে চাওয়া নাদানদের কাছে সিরাজ সিকদার হিরো হয়েই আছেন।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব পরিচালিত রাষ্ট্র জানিয়েছে, জানুয়ারির ২ তারিখ গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাস্টোডি থেকে পালানোর সময় ক্রসফায়ারে নিহত হন সিরাজ সিকদার।

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস জানিয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহরে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে গ্রেপ্তার করেন। আবার অন্য তথ্যমতে তিনি চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। সেই দিনই তাকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শেরেবাংলা নগর থেকে সাভারে রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে যাওয়ার পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে হত্যা করে।

তার বোনজামাই জাকারিয়া চৌধুরী জানিয়েছে, সিরাজ সিকদারকে হাতকড়া লাগিয়ে চোখবাঁধা অবস্থায় ঢাকাস্থ রমনা রেসকোর্সের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নিয়ে আসা হয়। তারপর ২ জানুয়ারি ১৯৭৫ গভীর রাতে এক নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। আজকের এই দিনটিকে জাতীয় ক্রসফায়ার দিবস হিসেবে পালন করা যেতে পারে। এটাই বাংলাদেশের প্রথম ক্রসফায়ার হিসেবে জানি। বুয়েটের সাবেক ছাত্র জনাব সিকদার একজন মাওবাদী গেরিলা ছিলেন। সেসময় জনাব মুজিব তাকে বিনা বিচারে খুন করেন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশন বসে। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লব, বাকশাল প্রসঙ্গে শেখ মুজিব অধিবেশনে বলেন , স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি, দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে, আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে, আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে।…

এরপর মুজিব, জিয়া ও এরশাদ সরকারের কঠোরনীতির ভেতর সর্বাহারা পার্টি বহু ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর বেশীরভাগ উপদলই আদর্শহীন সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিনত হয় মাত্র– সে ইতিহাস সবার জানা। সর্বশেষ তাদের মধ্যে অনেকে ডাকাতি করতে গিয়ে মারা পড়ে আরেক জঙ্গী গোষ্ঠী জেএমবি’র বাংলা ভাইয়ের হাতে।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬
Home Post

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬
Home Post

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • একনজরে বদর যুদ্ধের ঘটনাবলি

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে এই মুজতবা খামেনী?

মার্চ ১০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যে সকল সংকটে পড়বে বাংলাদেশ

মার্চ ৯, ২০২৬

বদর যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শিক বিশ্লেষণ

মার্চ ৭, ২০২৬

সাঈদীর রায় পরবর্তী গণহত্যা ও নিরবতায় অপরাধের মৌন সম্মতি উৎপাদন

মার্চ ৭, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD