বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

আর দেরি নয়, খুলে দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জুন ১, ২০২১
in Home Post, slide, মতামত
Share on FacebookShare on Twitter

মাছুম বিল্লাহ

করোনার কারণে দীর্ঘ ১১ মাস ধরে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত দেশের সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সংক্রমণ অনেকটা কমে আসায় এবং করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অবশেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

তবে ক্লাসে আগের মতো শিক্ষার্থী হয়তো দেখা যাবে না। আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার ঝরে পড়ার হার নিশ্চিতভাবেই বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা করোনাকালে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়েছে, তাদের অনেকেই আর স্কুলে ফিরবে না।

আবার অনেকে স্কুলে ভর্তি হলেও ক্লাসে অনুপস্থিতির হার বাড়বে। গত বছরের তুলনায় এ বছর এখনো এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এমনকি শিক্ষকরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারছেন না। এটি নিঃসন্দেহে শিক্ষার একটি অস্বস্তিদায়ক চিত্র।

বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে ভর্তিতে কোনো ধরনের টাকা নেওয়া হয় না, সেখানেও ভর্তির হার ব্যাপকভাবে কমেছে। ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্রও প্রায় একই। তবে শহরাঞ্চলের নামি-দামি স্কুলগুলোয় ভর্তির ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি।

২০১৯ সালের প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭.৯ শতাংশ আর মাধ্যমিকে এ হার ছিল ৩৭.৬২ শতাংশ। ২০২১ সালে ঝরে পড়ার হার অনেক বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝরে পড়ার পেছনে অন্যতম কারণ দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ে। বিশেষ করে শহরের বস্তিবাসী এবং চর ও হাওড় অঞ্চলের শিশুরাই বেশি ঝরে পড়ে।

করোনার কারণে এসব পরিবারে দারিদ্র্য আগের চেয়ে বেড়েছে, বেড়েছে বাল্যবিয়ের হারও। দেশে এখন ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। করোনার কারণে আরও ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নামতে পারে। সম্প্রতি পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে শহরের নিুআয়ের মানুষের আয় কমেছে ৮২ শতাংশ।

আর গ্রামাঞ্চলের নিুআয়ের মানুষের আয় কমেছে ৭৯ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এডুকেশন ওয়াচের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন ২০২১-এ ঝরে পড়ার ব্যাপারে উদ্বেগজনক মতামত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকে ৩৮ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ২০ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে এবং ৮.৭ শতাংশ মনে করেন, শিক্ষার্থীরা শিশুশ্রমে নিযুক্ত হতে পারে। মাধ্যমিকে ৪১.২ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতে পারে।

২৯ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে। ৪০ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির হার বাড়বে এবং ২৫ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়ার হার বাড়বে। ৪৭ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার বাড়বে, ৩৩.৩ শতাংশ মনে করেন, ঝরে পড়া বাড়বে এবং ২০ শতাংশ মনে করেন, অনেকেই শিশুশ্রমে যুক্ত হতে পারে। ৬৪ শতাংশ এনজিও কর্মকর্তা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার ও ঝরে পড়া বেড়ে যাবে।

করোনাকালে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় আছে কিন্ডারগার্টেনগুলো। সার্জন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চট্টগ্রামে চারটি ও ঢাকায় একটি ক্যাম্পাস আছে। প্রতি বছর তাদের পাঁচটি ক্যাম্পাসে নতুন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এ স্কুলের প্রধান এবং বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সারা দেশের ৬০ হাজার কিন্ডারগার্টেনে প্রায় ৮০ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।

এর অর্থ হলো, সরকারি প্রাথমিকে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, তার প্রায় অর্ধেকসংখ্যক পড়াশোনা করে কিন্ডারগার্টেনে। কাজেই এ ব্যাপারে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। প্রতি বছর এ সময়ে স্কুলগুলো থাকে জমজমাট। কিন্তু এবার এসব স্কুলে এক লাখ শিক্ষার্থীও ভর্তি হয়নি। দ্রুত স্কুলগুলো খুলে না দিলে কিন্ডারগার্টেনেরও অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে।

এডুকেশন ওয়াচের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়. দ্রুত ক্লাসে ফিরে যেতে চায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৭৬ শতাংশ অভিভাবক ও ৭৩ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দ্রুত স্কুল খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন। ৫৮ শতাংশ শিক্ষক ও ৫২ শতাংশ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একই মত দিয়েছেন। ৮২ শতাংশ শিক্ষক স্কুল খুলে দেওয়ার আগে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা তথা মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বেঁধে দেওয়া শর্তাবলি পালন করে দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান’ তৈরি করেছে। এতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, স্কুল খুলে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পরা, হাত পরিষ্কারও থার্মোমিটার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আগের মতো প্রতিদিন সব বিষয়ের ক্লাস হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। এ ব্যাপারে ২১ জানুয়ারি দুই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং তারা ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে গাইডলাইন পাঠিয়েছে। বন্ধ থাকা ক্লাসরুম, ধুলা পড়া ব্ল্যাকবোর্ড আর প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় চলছে ধোয়া-মোছার কাজ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতির খবরে ঘরবন্দি শিক্ষার্থীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। তারা দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে চায়। এডুকেশন ওয়াচের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, অভিভাবকদের তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পক্ষে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতিস্বরূপ ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা পাঠিয়েছ প্রতিষ্ঠান-প্রধানদের কাছে। বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে। থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করানো হবে। আগের মতো একটি বেঞ্চে তিন বা চারজন শিক্ষার্থী বসতে পারবে না। একটি বেঞ্চে এক থেকে দু’জন শিক্ষার্থী বসবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হয়তো ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে; তবে বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত টয়লেট স্থাপনসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ করতে একটু বেশি সময় লেগে যাবে।

রাজধানীর বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় আছে। কারণ এগুলোর শিক্ষার্থী সংখ্যা অনেক। কোনোটিতে ২৮ থেকে ৩০ হাজারের মতো। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি ও ঠাসাঠাসি করে বসে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এগুলোতে শিক্ষার্থী বসানো নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। যেমন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজার। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজার। এ দুটিরই কয়েকটি করে শাখা রয়েছে। মিরপুরের মনিপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার।

এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। রাজধানী ছাড়াও জেলা শহর ও গ্রাম এলাকার কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। গত সপ্তাহে ফিল্ড ভিজিটে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থী বসানো বেশ কষ্টকার হবে। তারপরও বিদ্যালয় খুলে দিতে হবে। দীর্ঘদিন বাসায় ‘বন্দি’ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা ছিল সীমিত। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসন ও সাধারণ প্রশাসন মিলে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।

তবে মূল উদ্যোগ মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। চলতি অর্থবছরে সরকারের শিক্ষা বাজেট ৬৬০০০ কোটি টাকার পুরোটাই ব্যয় হচ্ছে না করোনার কারণে। বিদ্যালয়ে খোলার প্রস্তুতিস্বরূপ সেখান থেকে সরকার একেবারে পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয়গুলোর জন্য কিছু অর্থ ব্যয় করতে পারে। করোনার কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও এক বছর ব্যাহত হলে সে ক্ষতির ভার শিশুরা বইতে পারবে না বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। এটি আমরাও বুঝি। ইতোমধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি পুষিয়ে নিতেই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। কাজেই আর দেরি নয়।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬
Home Post

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
Home Post

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

Discussion about this post

জনপ্রিয় সংবাদ

  • ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • শহীদ নাজিরকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • আল্লামা সাঈদী রহ.-কে ৪ বার গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছিল

    0 shares
    Share 0 Tweet 0
  • রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: ১৫ বছর পরেও বেপরওয়া খুনিরা, সুবিচার পায়নি শহীদ পরিবার

    0 shares
    Share 0 Tweet 0

সাম্প্রতিক সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অস্থিতিশীল হবে বৈশ্বিক অর্থনীতি

মার্চ ২, ২০২৬

আওয়ামী সন্ত্রাসের নবউত্থানে বিএনপির আশকারা দেশের জন্য অশনিসংকেত

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

ভোটের মাঠে জামায়াতের ঐতিহাসিক উত্থান: নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

তারেক রহমান সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে যেসব চ্যালেঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ ফ্যাসিবাদী জামানার সিলসিলা

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

© Analysis BD

No Result
View All Result

© Analysis BD