সোমবার, মে ২৫, ২০২৬
Analysis BD
No Result
View All Result
No Result
View All Result
Analysis BD
No Result
View All Result
Home Home Post

বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা?

এপ্রিল ২০, ২০১৯
in Home Post, slide, বিশেষ অ্যানালাইসিস
Share on FacebookShare on Twitter

অ্যানালাইসিস বিডি ডেস্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম শুক্রবার পিরোজপুরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি। এখনো দেশের কোনো খাতে দুর্নীতি নেই।

শ. ম রেজাউল করিম সুপ্রিমকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ভোটডাকাতির একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রেজাউল করিমকে একজজন সচেতন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই জানতেন মানুষ। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটডাকাতি থেকে তিনিও বিরত থাকেন নি। এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে বিরোধী মতের লোকদের বাড়িঘর ও সভা সমাবেশে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনিও। অতিমাত্রার বঙ্গবন্ধু ও হাসিনা বন্ধনার কারণে নির্বাচনের পর তিনি পেয়ে গেলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এখন অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নেই। কমপক্ষে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও প্রতিদিন থাকে উচ্চ মাত্রায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করতে হবে। সেই থেকেই তিনি বিগত ১০ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটকে ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন।

কিন্তু, বিগত ১০ বছর ধরে শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের যে মহোৎসব চলছে রেজাউল করিম কি এসব চাপা দিয়ে রাখতে পারবেন? এখন রেজাউল করিমকে যদি প্রশ্ন করা হয়-শেয়ারবাজার থেকে লাখ কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের নেতারা লুট করেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি কি বিএনপি-জামায়াত করেছে? দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াত লুট করেছে? সোনালী-জনতা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আত্মসাত করেছে? রেজাউল করিম কি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন? অবশ্যই পারবেন না।কারণ, সবগুলো দুর্নীতি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর এসব দুর্নীতি হয়েছে শেখ হাসিনার পরিবারের লোকদের নির্দেশনা অনুযায়ী। বলা যায়-এসব দুর্নীতি-লুটপাটের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে প্রতি মাসেই সরকারের বিভিন্ন খাতের ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। এসব দুর্নীতির কারণে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আর অচল হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এসব খাতের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখানে চারটি খাতের দুর্নীতির উৎসগুলো উল্লেখ করা হলো-

দুর্নীতির কারখানা তিতাস

সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা

ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ

Home Post

যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

মে ৪, ২০২৬
Home Post

শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

মে ২, ২০২৬
slide

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

এপ্রিল ২০, ২০২৬

জনপ্রিয় সংবাদ

    সাম্প্রতিক সংবাদ

    যেসব কারণে পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন ছিল একেবারে অন্যরকম

    মে ৪, ২০২৬

    শিল্প বিপ্লব ও পাশ্চাত্য সভ্যতা: শ্রমিক শোষণের উপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

    মে ২, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে

    এপ্রিল ২০, ২০২৬

    বেলায়াত-এ-ফকিহ: অর্ধশতাব্দি ধরে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার মূল শক্তি

    এপ্রিল ১৯, ২০২৬

    বাংলাদেশে নয়া ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি ও ইতালীয় দার্শনিকের বয়ান

    এপ্রিল ১৮, ২০২৬

    © Analysis BD

    No Result
    View All Result

    © Analysis BD